৪ জুলাই ২০২০ ১১:০:৩৪
logo
logo banner
HeadLine
৩ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৬৩, মোট ৯৬৬৮ * পাটকলগুলোর আধুনিকায়নে উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকদের এককালীন পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার * প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেল্টা কাউন্সিল গঠন * ০৩ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩১১৪ , মৃত ৪২ * ২ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৮২, মৃত ৩ * দেশে আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিন আসছে ৬ মাসের মধ্যে * ০২ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৪০১৯ , মৃত ৩৮ * ১ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৭১, মৃত ৬ * দেশী কোম্পানী গ্লোব বায়োটেকের করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি, সংবাদ সম্মেলন কাল * ০১ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩৭৭৫ , মৃত ৪১ * ৩ আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্যবীধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস ও গণপরিবহন চলবে * ৩০ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ৩৭২ * সংসদে ২০২০ - ২১ অর্থবছরের বাজেট পাস * ৩০ জুন : দেশে আজ শনাক্ত ৩৬৮২ , মৃত ৬৪ * ২৯ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ৪৪৫ * 'গেদু চাচা' খ্যাত খোন্দকার মোজাম্মেল হক আর নেই * করোনা পরীক্ষার ফিঃ ২০০ টাকা , বাসায় ৫০০ * করোনা ভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে - প্রধানমন্ত্রী * বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি ,৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার * ২৯ জুন : দেশে আজ শনাক্ত ৪১০৪ , মৃত ৪৫ * ২৮ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ৩৪৬ * জাতির ক্রান্তিকালে ভরসা দেয় যে নেতৃত্ব * আপন মহিমায় ভাস্বর একাত্তর উত্তীর্ণ আওয়ামী লীগ * শুধু করোনা নয়, সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থায় মনোযোগ দরকার * বছরের পর বছর লোকসান, বন্ধ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সব পাটকল, ২৫ হাজার শ্রমিক গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে * বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়ালো, মৃত ৫ লাখ * ২৭ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ৬৪ * ৭ কোটি ১১ লাখ মানুষ করোনায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে * ২৭ জুন : দেশে আজ শনাক্ত ৩,৫০৮ , মৃত ৩৪ * ২৬ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ১৫৯ *
     26,2017 Saturday at 10:51:06 Share

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভাবনে পাহাড়ে বিদেশি নাশপাতির চাষ

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভাবনে পাহাড়ে বিদেশি নাশপাতির চাষ

পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি ভূমিতে বিদেশী ফল নাশপাতি চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ড্রাগন, কমলা,রাম্বুটানসহ নানা জাতের বাহারী বিদেশী ফল সমতল ভূমিতে চাষ হলেও শুধু মাত্র পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটের পাহাড়ি ভূমিতে নাশপাতি চাষের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। নাশপাতি শীত প্রধান অঞ্চলের ফল হলেও পার্বত্য অঞ্চলের স্বল্প তাপমাত্রা এবং পাহাড়ে ঢালু সমতল অংশে চাষের উপযোগী। এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে সফলতা পেয়েছে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র,খাগড়াছড়ি। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে নাশপাতির জাত অবমুক্ত করেন। যার নামকরণ হয়েছে বারি নাশপাতি–১। অবমুক্তের পর নাশপাতির ফলন পার্বত্য অঞ্চলে চাষের উপযোগীতা পেয়েছে বলে মত দেন সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। এটি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা যুক্ত হবে। সরেজমিনে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, একটি স্বতন্ত্র ব্লকে সারি সারি নাশপাতি গাছ। ব্লকে প্রায় একশ পরিপূর্ণ নাশপাতি গাছ। ঘন সবুজ প্রত্যেকটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে নাশপাতি। বেশীর ভাগ নাশপাতি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করেছে বাগানের কর্মচারীরা।


একেকটি গাছে ফলন হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টি। শ্রাবণ–ভাদ্র মাসে ফল সংগ্রহের সময় হলেও এই মৌসুমে ফলন আহরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফল সংগ্রহের পর নাশপাতি গাছের ডালে নতুন কলম করছে বাগানের পরিচর্যা কর্মীরা। প্রত্যেকটি পরিপূর্ণ গাছে বেশ কিছু কলম তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূলত কৃষক পর্যায়ে বিতরণের জন্য নাশপাতির কলম তৈরি করা হচ্ছে। পরিচর্যা কর্মীরা বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে আমরা নাশপাতির কলম করি, পরে কলম চারা এক বছর পরিচর্যার পর কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।


পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. গোলাম রহমান বলেন, সাধারণত নাশপাতি শীত প্রধান দেশগুলোতে অধিক হারে চাষ হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে নাশপাতির ফলনের ভালো সম্ভাবনা আছে। ইতিমধ্যে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সফলতা পেয়েছে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম বারি নাশপাতি–১ অবমুক্ত করেন পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়ি। এবছর নাশপাতি ব্লকের প্রায় শতাধিক গাছে নাশপাতির ফলন হয়েছে। নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাতের নাশপাতির ফলন অধিকতর পুষ্টিগুণ ও সুস্বাধু। এবারের ফলের গড় ওজন ১৩৫ থেকে ১৪০ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৬ থেকে ৭ মণ ফলন হয়েছে। কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে পরীক্ষামূলক নাশপাতির ফলন আশানুরূপ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বারি নাশপাতি–১ অবমুক্ত করণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এটি এখনো মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌছাতে পারিনি। কৃষক পর্যায়ে নাশপাতি চাষ পৌছাতে পারলে পাহাড়ের কৃষিজ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা ছাড়াও জেলার রামগড় পাহাড়ি অঞ্চল গবেষণা কেন্দ্রে এর চাষ হচ্ছে। নাশপাতির চারা রোপণের সময় জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। তবে পাাহাড়ি ভূমিতে পাম্পের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে সারা বছরই এটি রোপণ উপযোগী। ৩ থেকে ৪ বছর পর পরিপূর্ণ গাছে ফুল আসতে শুরু করে। সাধারণত চৈত্র মাসে নাশপাতির গাছে ফুল আসতে থাকে। ৪ মাস পর গাছে ফল পরিপক্ক হয়। শ্রাবণ–ভাদ্র মাস থেকে গাছ থেকে ফল আহরণ শুরু হয়। পাহাড়ের উৎপাদিত নাশপাতির রঙ অনেকটা বাদামী রঙের ও খসখসে হয়। কৃষি গবেষণা সূত্রে জানা যায়, জৈব সার ব্যবহারে নাশপাতির ভালো ফলন সম্ভব হয় এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় নাশপাতি গাছ ও ফলে পোকা মাকড় কম তি করতে পারে। বাড়তি কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। নাশপাতি পচনশীল না হাওয়ায় একটি দীর্ঘমেয়াদী বাজারজাতের জন্য সুবিধাজনক। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে এটি এখনো পৌছাতে পারেনি। অনেকে বসতবাড়িতে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছে। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ–সহকারী পরিচালক তরুন ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে নাশপাতির চাষাবাদ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে, তবে বিভিন্ন ব্লকে এটির চাষ হচ্ছে। তবে এটি বিদেশ থেকে আমাদানিকৃত নাশপাতির চেয়ে রঙ, স্বাদের দিক থেকে কিছুটা ভিন্ন। পার্বত্য অঞ্চলে নাশপাতি চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। বারি নাশপাতি–১ নিয়ে আরো গষেবণা হওয়া দরকার বলে তিনি মত দেন।


 

User Comments

  • আরো