২৪ আগস্ট ২০১৯ ১৭:২৭:১৩
logo
logo banner
HeadLine
আবারও ভেস্তে গেল রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া * গ্রেনেড হামলায় খালেদার মদদ ছিল,মৃত্যু ভয়ে আমি কখনই ভীত ছিলাম না, এখনও নই * নারকীয় গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী আজ, আওয়ামীলীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই এ হামলা * ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু * ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১,৬১৫ জন, কমছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা * জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রথমবারের মতো পালিত হলো জাতীয় শোক দিবস * ডেঙ্গু দমন নিয়ে অসন্তোষ হাইকোর্ট * সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু * ডেঙ্গুর কার্যকর ওষুধ ছিটাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ , নাগরিকদেরকে তাদের বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি * সরকারী হাসপাতেলে বিনামূল্যে, বেসরকারীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি বেঁধে দিয়েছে সরকার * ডেঙ্গু জ্বর: প্রতিরোধের উপায় * ডেঙ্গু : প্রকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা * ডেঙ্গু সম্পর্কে ১০ তথ্য * টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা, সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নং সতর্ক সংকেত * মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশনকে চারদিন সময় দিলেন হাইকোর্ট * আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই: হাইকোর্ট * প্রধানমন্ত্রীর চোখে অস্ত্রোপচার * ছেলেধরা সন্দেহে ১৮ জনকে গণপিটুনি, সারাদেশে আতঙ্ক * গুজব-গণপিটুনি বন্ধে পুলিশ সদর দপ্তরের বার্তা * দূত সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী * রাজধানীতে ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় ৫০০ জনের বিরুদ্ধ্বে হত্যা মামলা * লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী * ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে প্রিয়া সাহার অভিযোগ সঠিক নয়, : মার্কিন রাষ্ট্রদূত * রিফাত হত্যায় আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি * রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান * জিএম কাদের জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান * এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৭৩.৯৩ * অরক্ষিত রেলক্রসিং, মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ নিহত ৯ * উন্নয়নের গতি বাড়াতে ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ * রোমাঞ্চকর ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড *
     26,2017 Saturday at 10:51:06 Share

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভাবনে পাহাড়ে বিদেশি নাশপাতির চাষ

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভাবনে পাহাড়ে বিদেশি নাশপাতির চাষ

পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি ভূমিতে বিদেশী ফল নাশপাতি চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ড্রাগন, কমলা,রাম্বুটানসহ নানা জাতের বাহারী বিদেশী ফল সমতল ভূমিতে চাষ হলেও শুধু মাত্র পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটের পাহাড়ি ভূমিতে নাশপাতি চাষের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। নাশপাতি শীত প্রধান অঞ্চলের ফল হলেও পার্বত্য অঞ্চলের স্বল্প তাপমাত্রা এবং পাহাড়ে ঢালু সমতল অংশে চাষের উপযোগী। এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে সফলতা পেয়েছে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র,খাগড়াছড়ি। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে নাশপাতির জাত অবমুক্ত করেন। যার নামকরণ হয়েছে বারি নাশপাতি–১। অবমুক্তের পর নাশপাতির ফলন পার্বত্য অঞ্চলে চাষের উপযোগীতা পেয়েছে বলে মত দেন সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। এটি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা যুক্ত হবে। সরেজমিনে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, একটি স্বতন্ত্র ব্লকে সারি সারি নাশপাতি গাছ। ব্লকে প্রায় একশ পরিপূর্ণ নাশপাতি গাছ। ঘন সবুজ প্রত্যেকটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে নাশপাতি। বেশীর ভাগ নাশপাতি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করেছে বাগানের কর্মচারীরা।


একেকটি গাছে ফলন হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টি। শ্রাবণ–ভাদ্র মাসে ফল সংগ্রহের সময় হলেও এই মৌসুমে ফলন আহরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফল সংগ্রহের পর নাশপাতি গাছের ডালে নতুন কলম করছে বাগানের পরিচর্যা কর্মীরা। প্রত্যেকটি পরিপূর্ণ গাছে বেশ কিছু কলম তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূলত কৃষক পর্যায়ে বিতরণের জন্য নাশপাতির কলম তৈরি করা হচ্ছে। পরিচর্যা কর্মীরা বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে আমরা নাশপাতির কলম করি, পরে কলম চারা এক বছর পরিচর্যার পর কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।


পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. গোলাম রহমান বলেন, সাধারণত নাশপাতি শীত প্রধান দেশগুলোতে অধিক হারে চাষ হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে নাশপাতির ফলনের ভালো সম্ভাবনা আছে। ইতিমধ্যে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সফলতা পেয়েছে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম বারি নাশপাতি–১ অবমুক্ত করেন পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়ি। এবছর নাশপাতি ব্লকের প্রায় শতাধিক গাছে নাশপাতির ফলন হয়েছে। নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাতের নাশপাতির ফলন অধিকতর পুষ্টিগুণ ও সুস্বাধু। এবারের ফলের গড় ওজন ১৩৫ থেকে ১৪০ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৬ থেকে ৭ মণ ফলন হয়েছে। কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে পরীক্ষামূলক নাশপাতির ফলন আশানুরূপ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বারি নাশপাতি–১ অবমুক্ত করণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এটি এখনো মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌছাতে পারিনি। কৃষক পর্যায়ে নাশপাতি চাষ পৌছাতে পারলে পাহাড়ের কৃষিজ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা ছাড়াও জেলার রামগড় পাহাড়ি অঞ্চল গবেষণা কেন্দ্রে এর চাষ হচ্ছে। নাশপাতির চারা রোপণের সময় জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। তবে পাাহাড়ি ভূমিতে পাম্পের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে সারা বছরই এটি রোপণ উপযোগী। ৩ থেকে ৪ বছর পর পরিপূর্ণ গাছে ফুল আসতে শুরু করে। সাধারণত চৈত্র মাসে নাশপাতির গাছে ফুল আসতে থাকে। ৪ মাস পর গাছে ফল পরিপক্ক হয়। শ্রাবণ–ভাদ্র মাস থেকে গাছ থেকে ফল আহরণ শুরু হয়। পাহাড়ের উৎপাদিত নাশপাতির রঙ অনেকটা বাদামী রঙের ও খসখসে হয়। কৃষি গবেষণা সূত্রে জানা যায়, জৈব সার ব্যবহারে নাশপাতির ভালো ফলন সম্ভব হয় এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় নাশপাতি গাছ ও ফলে পোকা মাকড় কম তি করতে পারে। বাড়তি কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। নাশপাতি পচনশীল না হাওয়ায় একটি দীর্ঘমেয়াদী বাজারজাতের জন্য সুবিধাজনক। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে এটি এখনো পৌছাতে পারেনি। অনেকে বসতবাড়িতে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছে। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ–সহকারী পরিচালক তরুন ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে নাশপাতির চাষাবাদ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে, তবে বিভিন্ন ব্লকে এটির চাষ হচ্ছে। তবে এটি বিদেশ থেকে আমাদানিকৃত নাশপাতির চেয়ে রঙ, স্বাদের দিক থেকে কিছুটা ভিন্ন। পার্বত্য অঞ্চলে নাশপাতি চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। বারি নাশপাতি–১ নিয়ে আরো গষেবণা হওয়া দরকার বলে তিনি মত দেন।


 

User Comments

  • আরো