১৮ আগস্ট ২০১৯ ১৪:১২:৫২
logo
logo banner
HeadLine
সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু * ডেঙ্গুর কার্যকর ওষুধ ছিটাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ , নাগরিকদেরকে তাদের বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি * সরকারী হাসপাতেলে বিনামূল্যে, বেসরকারীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি বেঁধে দিয়েছে সরকার * ডেঙ্গু জ্বর: প্রতিরোধের উপায় * ডেঙ্গু : প্রকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা * ডেঙ্গু সম্পর্কে ১০ তথ্য * টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা, সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নং সতর্ক সংকেত * মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশনকে চারদিন সময় দিলেন হাইকোর্ট * আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই: হাইকোর্ট * প্রধানমন্ত্রীর চোখে অস্ত্রোপচার * ছেলেধরা সন্দেহে ১৮ জনকে গণপিটুনি, সারাদেশে আতঙ্ক * গুজব-গণপিটুনি বন্ধে পুলিশ সদর দপ্তরের বার্তা * দূত সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী * রাজধানীতে ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় ৫০০ জনের বিরুদ্ধ্বে হত্যা মামলা * লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী * ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে প্রিয়া সাহার অভিযোগ সঠিক নয়, : মার্কিন রাষ্ট্রদূত * রিফাত হত্যায় আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি * রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান * জিএম কাদের জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান * এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৭৩.৯৩ * অরক্ষিত রেলক্রসিং, মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ নিহত ৯ * উন্নয়নের গতি বাড়াতে ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ * রোমাঞ্চকর ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড * হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর জীবনাবসান * দুর্নীতির কারণে আমাদের অর্জনগুলো যেন নষ্ট হয়ে না যায় - প্রধানমন্ত্রী * কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে নিহত ২, আরো ভারী বর্ষণ-ভূমিধসের সম্ভাবনা * বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে সরকার * আরও বৃষ্টির আশংকা, বিপদসীমার উপরে প্রধান নদ-নদীর পানি * জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সচেতন হতে বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী *
     04,2018 Sunday at 09:50:17 Share

সংলাপের আড়ালে সংদের চেহারা

সংলাপের আড়ালে সংদের চেহারা

অজয় দাশগুপ্ত :: দেশের মতো বিদেশেও টানটান উত্তেজনা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মনে। তারাও রাতভর বা দিনভর এই সংলাপ বিষয়ে মনোযোগী ছিল। কারণ, অনেক সময় ধরে প্রায় নির্জীব আর একপেশে রাজনীতির পানিতে কিছুটা ঢেউ জাগিয়েছে এই ঘটনা। আখেরে কার লাভ, কার লোকসান তার হিসাব হবে সময়ে। কিন্তু একটা ব্যাপার নিশ্চিত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজই আবার বড় হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি বা তাঁর দল এবার রাজি হবেন না সংলাপে। যার মূল কারণ দলছুট আওয়ামী নেতা ড. কামাল হোসেন। দীর্ঘকাল দলের বাইরে থাকা আইনজীবী ড. কামাল হোসেন নানা কারণে বিতর্কিত। তবে তাঁর একটা ভদ্রজনোচিত ইমেজ আছে। যেটা আর যাই হোক বিএনপির সঙ্গে যায় না। যখন দল ছাড়লেন তখন তিনি যেমন এখনও তাই। নিজে দল করতে চাইলে পারেন না। বা করলেও টেকে না। মজার ব্যাপার হলো, দেশের বাম রাজনীতির একগাদা ত্যাগী-অত্যাগী নেতা তাঁকে সামনে রেখে গণফোরাম নামে একটি দল গঠন করেছিলেন। সে দল এখন কোথায় বা কারা আছেন কারা নেই তার হদিস মেলে না। যেমনটি আসম রবের বেলায়ও সত্য। এরশাদের স্তাবকতা আর দালালি করে কপ নামের যে বিরোধী জোট তার শরিক দলগুলো কবে মরে ভূত হয়ে গেছে তারপরও রবের আস্ফালন কমেনি। ফলে এই দুই একদা ছাত্রলীগার আর আওয়ামী লীগারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা বসবেন কি-না তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছিল। শেষতক প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রজ্ঞা আর মেধায় সায় দিয়ে মূলত এদের ব্যক্তি ক্রোধকে সাইজ করে দিয়েছেন।


তবে আওয়ামী লীগ জিতেছে না হেরেছে সে আলোচনার সময় এখনও আসেনি। প্রবাসে আরও বহু মানুষের মতো আমার মনেও একটা প্রশ্ন জেগেছে। ড. কামাল হোসেন বসে আছেন তাঁর পুরনো নেত্রীর মুখোমুখি এবং প্রধান হিসেবে। এটা কি মানায়? বলব, লজ্জাটা ড. কামাল হোসেনেরই হওয়ার কথা। জীবনভর তিনি যা বললেন বা করলেন শেষ বয়সে এক শ’ আশি ডিগ্রী লাফ দিয়ে আরেক কাতারে যাওয়া কি তাঁকে মানিয়েছে? খালেদা জিয়ার রাজনীতি বা বিএনপির রাজনীতি কামাল হোসেন বোঝেন আদৌ? যে মানুষগুলো তাঁর সঙ্গে গিয়েছিল যাদের হয়ে তিনি ওকালতি করলেন তারা কি আসলেই তাঁর বিশ্বাসভাজন? যদি তা হয় তাহলে তো রাজনীতি শুধু না দুনিয়াতেই আর ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু থাকবে না। এই ভদ্রলোককে নিয়ে এত লেখা এত কথা তাই বিশেষ কিছু বলব না। আজ আমাদের সবার মনে এক প্রশ্ন, একাধিক জিজ্ঞাসা। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছিল পাকহানাদার বাহিনী। সে ছবি সে খবরের সত্যতা আছে। তাঁকে কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানে? কিভাবেই বা তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ফিরেছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর আজ যেন অনেকটাই প্রকাশ্য। আমরা আওয়ামী লীগের কর্মী না। আমাদের প্রশ্ন বিবেকের। যে মানুষটিকে নিয়ে মানুষ জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল আজ তিনি মির্জা ফখরুল-মওদুদের পাশে বসে চিজ কেক খাচ্ছেন এটা কেমন জানি সন্দেহের। শুধু ব্যক্তি রাগ বা ক্রোধ থেকে কেউ এটা করতে পারে?


বাজারে অনেক গুজব। কেউ বলেছে তিনি বিক্রীত। কারও মতে বিকৃত। কোন্টা সত্য তার জবাব দেবে সময়। কিন্তু এই সংলাপে আমরা বা দেশবাসী কি পেলেন? একটা লাভ হয়েছে, পরস্পর বিবদমান দুটি শক্তি মুখোমুখি বসে কথা বলতে পেরেছে। তাছাড়া তারা নৈশভোজও করেছে একসঙ্গে। এই ভোজ নিয়ে কত ট্রল আর কত খবর। যার মূল হোতা ফ্রন্টের নেতারা। তারা কেন খাবেন আর কেন খাবেন না সেটা তারা না বললেও পারতেন। বাচ্চাদের মতো খাব না খাব না করে শেষ পর্যন্ত তারা খেয়ে প্রমাণ করলেন কথা ও কাজে মিল না থাকলেও নেতা হওয়া যায়। তাও মন্দের ভাল তারা খেয়ে ফিরেছেন। মজার ব্যাপার, এই সংবিধানের বাইরে পা না রাখার ব্যাপারে অটল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের কি বক্তব্য তা কিন্তু জানা যায়নি।


সামনে যে নির্বাচন তাতে কি এই সংলাপের প্রভাব পড়বে আদৌ? গ্রাম-গঞ্জের মানুষ কি আসলেই এসব নেতাদের চেনেন? বয়সী মানুষদের কাছে জাতির প্রত্যাশা ম্যাচিওরিটি। সেটা তাঁরা সংলাপে যাওয়া ছাড়া আর কোনভাবে দেখাতে পারেননি। সবাই জানেন দফা দিলেই তা পূরণ হয় না। দফা বহুবার দেয়া হয়েছে। এমনকি ছয় দফার মতো অবিনাশী দফাগুলোও পাকিরা মানেনি। কিন্তু নিজ দেশের সরকার পরিবর্তন বা জাতীয় নির্বাচনের আগে এভাবে দফা রফা করা নিতান্তই গোলমেলে। বাংলাদেশের রাজনীতির দুর্ভাগ্য, আমজনতা কিংবা সাধারণ মানুষের নেতারা এখন আর লাইমলাইটে আসতে পারেন না। ক’দিন ধরে তারস্বরে মাইক ফাটিয়ে বেড়ানো রব বা মান্নার কি কাজ ছিল বিগত বছরগুলোতে? লাখ লাখ নতুন ভোটারের ক’জন তাদের চেনে? তাদের কথা, ভাষা বা আচরণ কি আধুনিক আদৌ? সংলাপের নামে গণভবনে যাওয়া খাওয়া বা মিডিয়ায় ছবি হতে পারা এক বিষয় আর মানুষের আস্থা ধারণ করতে পারা ভিন্ন। কাজেই আমার মতো মানুষের জন্য এটি এক রাত বা সন্ধ্যার বিনোদন ছাড়া তেমন কিছু বলে মনে হয় না।


শেখ হাসিনা তাঁর উন্নয়ন কর্মকা- আর দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে যাদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের উত্তর দেয়ার ভাষা ছিল না। আমি বলব, এ জায়গায় জাতীয় পার্টিই বরং এগিয়ে আছে। আজ থেকে অনেক বছর পর মানুষ যখন বাংলাদেশের আর্থিক প্রগতি ও ডিজিটালায়নের ইতিহাস জানাবে তারা দেখবে জাতীয় পার্টিই ছিল এর শরিক দল। এদেশের যোগাযোগ থেকে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বিষয়ে গৃহীত কাজের ভাগিদার ছিলেন তারা। সংসদ মানে কি এক দল? সেখানে বিরোধী দলেরও হিসসা আছে। জাতীয় পার্টির যেসব নেতা নানা কমিটিতে থেকে উন্নয়ন বা অগ্রগতিতে কাজ করেছেন তাদের ইতিহাসের পাশাপাশি বিএনপির বিরোধিতাও নিশ্চয় লিপিবদ্ধ থাকবে মানুষের মনে। আজ যারা ভোটের অধিকার চাইতে গণভবনে গিয়ে খাবার খেয়ে নিউজ হলেন তাদের দায় তারা কিভাবে এড়াবেন? একমাত্র জবাবদিহিতাহীন সমাজেই তা সম্ভব। নিজের পায়ে কুড়াল মারা বিএনপি এবার যদি নির্বাচনে না যায় এবং বিদেশে পলাতক নেতা বা হাজতবাসী নেত্রীর জন্য গো ধরে থাকে তাদের ভবিষ্যত আবারও অন্ধকারে ঢেকে যাবে।


আমাদের যেটা চোখে লেগেছে বঙ্গবন্ধু কন্যার মুখোমুখি বসা ড. কামাল হোসেন। যা দেখার আগে বিদায় নেয়া নেতারা দেখলে হয়ত নিজেরাই মূর্ছা যেতেন। রঙ্গভরা বঙ্গদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার মহাসচিবকে বগলে করে নিয়ে আসা ড. কামাল হোসেন ইতিহাসে কিভাবে চিহ্নিত হবেন অনুমান করা কঠিন কিছু না। জিয়াউর রহমান যেভাবেই থাকুক টিকে আছে কিন্তু মোশতাককে মানুষ মাফ করেনি। মনে রাখে একজন জাতীয় বেঈমান আর মীরজাফর হিসেবে। সে ঘৃণার দায়ভার নেয়া দলছুট মানুষরা যখন চট্টগ্রামে গিয়ে জনসভায় ঘোষণা দেয় শেখ হাসিনার কি শাস্তি হতে পারে তা নাকি চিন্তাও করা যাবে না। তখন মনে হয় প্রধানমন্ত্রী দুধকলা দিয়ে আপ্যায়ন করলেও সাপ ছোবল মারতে ছাড়বে না।


হায় সংলাপ! তুমি কি সংদের আসল চেহারা তুলে ধরবে না?

User Comments

  • কলাম

Warning: Unknown: write failed: Disk quota exceeded (122) in Unknown on line 0

Warning: Unknown: Failed to write session data (files). Please verify that the current setting of session.save_path is correct (/tmp) in Unknown on line 0