১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ১২:১৯:৪৫
logo
logo banner
HeadLine
আমিরাতের সঙ্গে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন * এবার বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে খরচ পড়বে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা * কৌশলে রাজনীতিতে থাকতে চাইছে জামায়াত, পুরনো বোতলে নতুন মদ * ইয়াবাকারবারিদের আত্মসমর্পণ: সাড়ে তিন লাখ ইয়াবা ও ৩০ অস্ত্র জমা * প্রধানমন্ত্রীকে ৯৮ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার অভিনন্দন * বিলুপ্তি ও ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানিয়ে জামায়াত ছাড়লেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক * বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলে খুবই চালাকির সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল * দ্রুতগতিতে চলছে ১০ মেগা প্রকল্প ও ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ * ভবিষ্যতে তরুণদের সুযোগ করে দিতে চাই - শেখ হাসিনা * একদিন আগেই শুরু হল বিশ্ব এজতেমা * ছয় দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী আজ জার্মানি যাচ্ছেন * ২৮ দিনে জমির নামজারি , সর্বোচ্চ ৫৩ দিনে নক্সা অনুমোদন, ভবন নির্মাণে বীমা বাধ্যতামুলক * ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য উন্নত দেশ গড়তে চাই - প্রধানমন্ত্রী * ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবি গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত চার * কর্ণফুলী টানেল : চট্টগ্রাম হবে ওয়ান সিটি টু টাউন * ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন * 'জয় বাংলা' মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, বীর বাঙালীর স্লোগান * সব হজযাত্রায় খরচ বেড়েছে * ডাকসু'র তফসিল আজ * অল্প জমি ও মাটি ছাড়া সবজি, ফুল, ফল উৎপাদনের প্রযুক্তিকে চাষী পর্যায়ে নিয়ে যান - কৃষিমন্ত্রী * আরও ১২২ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর নাম ঘোষণা * রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান চায় ঢাকা * হিন্দুকুশের বরফ দ্রুত গলছে : ভেসে যাবে দশ নদীর অববাহিকা , বিপন্ন হবে ২শ' কোটি লোক * উপজেলা নির্বাচনে ৮৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল আওয়ামীলীগ, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীতা থাকবে উন্মুক্ত * জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের ঘোষনা * শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে আজ * দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দিতে হবে * সব ধরনের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের নীতিমালা বৈধ: হাইকোর্ট * সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও সন্দ্বীপে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আহবান জানালেন প্রধানমন্ত্রী * ২১ গুণীজনের ২১শে পদক লাভ *
     06,2018 Thursday at 09:07:11 Share

১১ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবে আওয়ামীলীগ, আত্মবিশ্বাসী বিদ্রোহ দমনে'ও

১১ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবে আওয়ামীলীগ, আত্মবিশ্বাসী বিদ্রোহ দমনে'ও

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার জন্য প্রস্তুত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রচারণায় বিভিন্ন চমকসহ ডিজিটাল মাধ্যমকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের প্রচার কমিটি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া কৌশলগত প্রচারণার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে দেশবরেণ্য অভিনয়শিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী এবং চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের। এরইমধ্যে দফায় দফায় আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করে নির্ধারণ করা হয়েছে প্রচারণা শুরুর তারিখ। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর, এরপর প্রতীক বরাদ্দের পর  ১১ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকার পক্ষে প্রচারণা শুরু হবে।
বুধবার (৫ ডিসেম্বর) প্রচার কমিটির বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা প্রচারণার সামগ্রী ইতোমধ্যে যেগুলো প্রস্তুত করেছি, সেগুলো কীভাবে বণ্টন করা হবে; সেই বিষয়ে প্রচার কমিটির বৈঠকে আলোচনা করেছি। এজন্য আমরা কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে দেশের অনেক অভিনয়শিল্পী, সেলিব্রিটি প্রচারের কাজে যুক্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকগুলো টিভিসি তৈরি করেছি। আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, আগামী ১১ তারিখ সকাল ১১টায় এফডিসির সামনে থেকে অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে ঢাকা শহরে প্রচারপত্র বিলির কাজ শুরু করবো। অভিনয়শিল্পীরা ঢাকার বাইরেও যাবেন প্রচারণার কাজে। চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’    


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ তারিখ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত ছাড়াও সেখানে সুধীমহলের সঙ্গে মতবিনিময় ও একটি জনসভা করার প্রস্তাব খসড়ায় রয়েছে। পরদিন পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোটালীপাড়ায় সমাবেশ হতে পারে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোও খসড়া সফরসূচিতে রয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় একাধিক বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে। তবে, রুট, পরিবহন ব্যবস্থা, স্থান ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে সার্বিক সফরসূচি চূড়ান্ত হবে।


সূত্রমতে, টুঙ্গিপাড়ার পর প্রধানমন্ত্রী খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, নড়াইল এবং যশোর হয়ে ঢাকা ফিরতে পারেন। যাওয়া ও আসার একটি হতে পারে সড়ক পথে। এছাড়া জেলাগুলোও তিনি সফর করবেন সড়ক পথেই। ঢাকা ফিরেই বঙ্গবন্ধু কন্যা যেতে পারেন সিলেটে হযরত শাহজালাল (রা.) এবং হযরত শাহ পরানের (রা.) মাজার জিয়ারতে। সিলেট শহরেই একটি জনসভায় অংশ নিয়ে ওই অঞ্চলের প্রস্তাবিত দুটি রুটের একটি হয়ে তিনি রাজধানীতে ফিরবেন। প্রস্তাবিত রুটের একটি হলো সিলেট থেকে সড়ক পথে সুনামগঞ্জ হয়ে অথবা সড়ক পথে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরা। সিলেটে যাওয়ার অথবা ফেরার পথে একবার বিমানে এবং আরেকবার সড়ক পথে যাতায়াত করবেন তিনি। এছাড়া ময়মনসিংহসহ ওই অঞ্চলের কয়েকটি জেলা এবং রংপুরসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা সফরে যেতে পারেন সরকার প্রধান। সফরে তিনি জনসভার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।


ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন দেশবরেণ্য শিল্পীরা। এরমধ্যে আছেন, নাট্য অভিনেতা জাহিদ হাসান, তার স্ত্রী নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ, শমী কায়সার, আফসানা মিমি, তানভিন সুইটি,  চিত্রনায়ক ফেরদৌস, রিয়াজ, শাকিল খান, অরুণা বিশ্বাসসহ আরও অনেকে। দলীয় প্রচারের অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তাদেরকে প্রচার কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান এমপি ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ গান তৈরি করেছেন দলের প্রচারণার জন্য। সেগুলো সিডি আকারে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করা হবে। 


দলের প্রচার কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে কতগুলো ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে। ভিডিও কন্টেন্টগুলো শিল্পীরা তাদের ফেসবুকে শেয়ার করবেন। ভিডিও কন্টেন্টগুলো তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে। আওয়ামী লীগকে কেন আবার ক্ষমতায় আনা জরুরি সেসব বিষয় দেশবরেণ্য শিল্পীরা নিজ মুখে ভিডিও কন্টেন্টে তুলে ধরেছেন। এছাড়া তরুণ ও নতুন ভোটারদের কাছে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতেও কিছু ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে। আরও আছে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে পদ্মাসেতুকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, তারিক আনাম খান, চিত্রশিল্পী হাসেম খান, মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী নাসির উদ্দিন ইউসুফের মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের ভিডিও বার্তা; যা ধারণ করা হয়েছে শিখা চিরন্তনের সামনে।


প্রচার কমিটি সূত্রে আরও জানা গেছে, কবে, কে, কোথায় এবং কীভাবে তাদের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন এবং তা কীভাবে সফল করবে সেই বিষয়েও বৈঠক করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে আওয়ামী লীগের প্রচারপত্র বিলি, ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন, পথনাটক, কণ্ঠশিল্পীদের লাইভ গান ও অন্যান্য ইভেন্ট বেইজড প্রচারণা চালাবেন অভিনয়শিল্পী ও কণ্ঠশিল্পীরা।


পাশাপাশি প্রচারণায় থাকছে ছাপা কাগজে ২০১৩-১৪ সালে নির্বাচন বানচালের নামে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের চিত্র। সেগুলো বিলি করা হবে সাধারণ মানুষের কাছে। এছাড়া গ্রাফিক্স ব্যবহার করে নানা ধরনের পোস্টার তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে দলের প্রকাশনা কমিটি। এসব পোস্টারে আওয়ামী লীগের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া হবে।  এছাড়া গত ১০ বছরে সরকারের করা উন্নয়নের বিষয়ে পকেট সাইজ পুস্তিকাও প্রচার করা হবে।


আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরামের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান সরকার সাড়ে ৯ বছরে যে উন্নয়ন করেছে, তার ঠিক চিত্র গ্রাম পর্যায়ে তুলে ধরতে পারলে আগামীতেও জনগণ নৌকাকে বেছে নেবে। সে কারণে আওয়ামী লীগ সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সেসব পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে নিমিষেই পৌঁছে এবং তাদের আকৃষ্ট করতে সেলিব্রিটিদেরকে প্রচারণায় যুক্ত করা হয়েছে।


এদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাকর্মীদের বশে আনার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে ‘বিদ্রোহী’ এসব প্রার্থীর সঙ্গে কেন্দ্র থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত নেতারা বলছেন, দলের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তারা সবাই প্রত্যাহার করবেন। আর যেসব আসনে একাধিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই সেখানেও একজনকে চূড়ান্ত করা হবে।
আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, কে বা কারা দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তা জানিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনে দুইটি চিঠি দেওয়া হবে। এর একটি হলো ৩০০ আসনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আর আরেকটি হবে একাধিক আসনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে চূড়ান্ত মনোনীতদের তালিকা।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যতম শীর্ষ নেতা দলীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা প্রথমে কারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন তাদের চিহ্নিত করেছেন। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রায় সবাই মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছেন। আশা করি, ৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই সবাই প্রত্যাহার করবেন।
প্রসঙ্গত, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সারাদেশে ৭৬টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রার্থীতা বাছাইয়ে এর মধ্যে ২৯টি বাতিল হয়ে গেছে। এখনও ৪৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে চাইছেন। কিন্তু তারাও শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে আত্মবিশ্বাসী এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতারা।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা নির্বাচন করছেন না বা করতে চেয়েও মনোনয়ন পাননি অথবা আগে সংসদ সদস্য ছিলেন, কিন্তু এবার মনোনয়ন পাননি, তাদের স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হওয়া নেতাদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখাসহ অন্যান্য নির্বাচনি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এ দায়িত্ব দিয়েছেন স্বয়ং দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কাজ দেওয়া নেতারা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ এবং বি এম মোজাম্মেল হক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন। এই কমিটিকে সহযোগিতা করবেন কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ আরও বেশ কয়েকজন।
গত ২৯ নভেম্বর এই নেতাদের নিজের সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকে নির্বাচনি নানা কাজের নির্দেশনা দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে ১ ডিসেম্বর দলের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করে দেশের বিভিন্ন স্থানের যেসব দলীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে ফোনে অথবা সামনা-সামনি বসে কথা বলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবারও (৪ ডিসেম্বর) দলীয় কার্যালয় থেকে অনেককে ফোন করা হয়। আর কার্যালয়ে ডেকে কথা বলা হয় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের খানের সঙ্গে। জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, মেহেরপুর-১ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, ময়মনসিংহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের অনেককেই ‘ম্যানেজ’ করতেও পেরেছেন তারা। আর অনেককে দলের সভাপতির কাছেও পাঠানো হয়। এরপর সবাই মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী আছে ১৭টি আসনে। আসনগুলো হলো রংপুর-৬, নওগাঁ-৫, নাটোর-১, নড়াইল-১, বরগুনা-১, পটুয়াখালী-২, টাঙ্গাইল-২, জামালপুর-১ ও ৫, কিশোরগঞ্জ-১, ঢাকা-৫, ৭ ও ১৭, চাঁদপুর-১, ২ ও ৪ এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনে। এছাড়া ৪৬ আসনে দল মনোনিত প্রার্থীর পাশাপাশি দলীয় কোনও না কোনও নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন। আর নড়াইল-১ আসনে ১৪ দলের শরিক জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া মনোনয়ন পেলেও সেখানকার সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তিকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। বাংলা ট্রিবিউন।

User Comments

  • রাজনীতি