২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১৬:১৩:৫৪
logo
logo banner
HeadLine
শেখ হাসিনা : ইতিহাসের ধ্রুপদী কন্যা * করোনায় আক্রান্ত ৩৯ দেশ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৬৩, সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বাংলাদেশের * দিল্লি পৌঁছলো উহানে আটকে পড়া ২৩ বাংলাদেশিসহ ১১২ জন * এসএসসি পর্যন্ত বিষয় ভিত্তিক বিভাজন না রাখার পক্ষে মত দিলেন প্রধানমন্ত্রী * পিলখানা হত্যাকান্ড : পরাজিত শত্রুর ষড়যন্ত্র * বাংলাদেশের ঢোল এখন অন্যরা পেটাচ্ছে * কেউ করোনায় আক্রান্ত নন - আইইডিসিআর * একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা * একুশে পদক হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী * চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেন যারা * চিকিৎসার উদ্দ্যেশে বিদেশ যেতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন * সরকারী হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ * চসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেন রেজাউল করিম চৌধুরী * করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোয় ৫ জন পুলিশ হেফাজতে * করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫৭ জনে * বাংলার চারণ কবি শাহ বাঙালি * করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * আগামীকাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার * চাকরি না খুঁজে চাকরি দেয়ার চিন্তা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী * আজ থেকে চালু হচ্ছে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাত্রা * মুজিব বর্ষে তরুণ প্রজন্মের কাছে জাতির গৌরবোজ্জল ইতিহাস তুলে ধরতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান * 'জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে'- প্রধানমন্ত্রী * করোনা ভাইরাস :: লক্ষণ ও প্রতিকার * শিশুদের দিবাযত্ন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন * দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত করে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী * রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দিয়েছে আইসিজে * বসলো পদ্মাসেতুর ২২তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৩৩০০ মিটার * হাঁচি-কাশির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় * ৮২৩৮ ঋণখেলাপীর তালিকা প্রকাশ * দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে: শেখ হাসিনা *
     20,2018 Thursday at 12:31:22 Share

নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর প্রতিবেদন : সামান্য বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে সাফল্য বাংলাদেশের

নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর প্রতিবেদন : সামান্য বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে সাফল্য বাংলাদেশের

রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ার প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ তার এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করে বলেছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে একটি ট্রাজেডির দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হয়েছে বাংলাদেশ। দারিদ্র্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে এ দেশের মানুষের লড়াই অনেক আগে থেকে হলেও সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কটের সঙ্গে লড়াই করছে দেশটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত প্রতিকূলতার পরেও সামান্য বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অর্থনীতিতে অন্যতম সফলতার নিদর্শন স্থাপন করেছে। আর এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের অবদান। বর্তমানে রফতানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত। পোশাক রফতানিতে দেশটির আগে রয়েছে শুধু চীন। গত এক দশক ধরেই বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশের বেশি। যেটি এই বছরে জুনে প্রায় ৭.৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


১৯৭৪ সালে দেশটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পরেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশটি সাড়ে ১৬ কোটি জনগণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি অর্জন করেছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৭৫০ ডলার। দেশটিতে দারিদ্র্যের হারও বেশ কমে এসেছে। ২০০৯ সালে যেটি ছিল ১৯ শতাংশ তা বর্তমানে মাত্র ৯ শতাংশ এবং এ দেশে যেসব মানুষ খুব দরিদ্র তাদেরও দৈনিক আয় গড়ে প্রায় ১.২৫ ডলার।


এই বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের দেয়া শর্তগুলো পূরণ করে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে আসে এবং বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটি ২০২৪ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে হিসেবে আবির্ভূত হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উন্নয়নকে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে জানিয়েছেন।


ডিসেম্বর মাসে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে হাসিনা বলেন, নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া আমাদের কিছু শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস দিয়েছে যেটি শুধু রাজনীতিবিদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ না জনগণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, আপনি যখন নিম্ন পর্যায়ে থাকবেন স্বাভাবিকভাবে তখন কোন কর্মসূচী অথবা প্রজেক্ট নিতে গেলে আপনাকে অবশ্যই অন্যের দয়ার ওপর চলতে হবে। কিন্তু যখনই আপনার উন্নয়ন হবে তখন আপনার কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না। কারণ আপনার নিজের অধিকার আছে।


ওই সাক্ষাতকারে হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের এই শক্তিশালী অর্থনীতি শুধু অব্যাহতই থাকবে না এটির গতি আরও বাড়বে। এই বিষয়ে হাসিনা বলেন, পরবর্তী ৫ বছরে আমরা আশা করছি যে আমাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৯ থেকে বেশি হবে এবং আমরা আশা করছি ২০২১ সাল থেকে এটি ১০’র বেশি হবে। এ সময় প্রতিবেদকের সঙ্গে হাসির ছলে হাসিনা বলেন, আমি সবসময় বেশি আশা করি। কেন আমি কম আশা করব।


কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সরকারের লক্ষ্যকেও ছাড়িয়েছে। এই বছরের জুন নাগাদ ৩৬.৭ বিলিয়ন ডলার পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। পোশাক শিল্পে এমন উন্নতি অব্যাহত থাকলে ২০১৯ সালে পোশাক রফতানি করে ৩৯ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য পূরণ করবে । এছাড়া পোশাক শিল্পে উন্নয়ন দেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সাল অর্থাৎ বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের আগে পোশাক রফতানির আয় যেন ৫০ বিলিয়ন ডলার হয় সে আহ্বান জানিয়েছেন।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ প্রবাসে থাকে যাদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশটির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি। ২০১৮ সালের হিসাব নাগাদ বার্ষিক আয়ের প্রায় ১৮ শতাংশ রেমিটেন্স থেকে আসে যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু শেখ হাসিনা জানে যে এই প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের শিল্পকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাই তিনি দেশের রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়ী নেতাদের রেমিটেন্স এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে কম মূল্যে পণ্য উৎপাদন করার তার যে ইচ্ছা সেটির কথা জানিয়েছেন।


২০০৯ সালে ক্ষমতা নেয়ার পর হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশে নামে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নের কথা বলা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ এগিয়ে গেছে দেশটি। রাজধানী ঢাকা খুব ছোট শহর হলেও সেখানে টেকনোলোজি সেক্টর গড়ে উঠছে। আর সেসব সেক্টরের সিইওরা প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল দ্রব্য যেটি ভারতের থেকে অন্যতম প্রধান রফতানি দ্রব্য সেটিতেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।


বাংলাদেশের সরকার বর্তমানে পুরো বিশ্বে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মধ্যে ১১টির কাজ প্রায় সম্পন্ন এবং ৭৯টির কাজ চলছে। এছাড়া দেশের অধিক জনসংখ্যাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশের সরকার। দেশের জনসংখ্যার ঘনত্বকে লভ্যাংশ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফায়সাল আহমেদ জানান, আমাদের দেশের অধিক জনসংখ্যা ঘনত্ব ও সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যেমন মাইক্রোফিনেন্স এবং কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পরিকল্পনার করার জন্য আমাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু আমাদের পতিত জমি কিভাবে আরও ভালভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং এই জন্য আমাদের খুব ভাল শিল্প পার্ক এবং বিশেষ শিল্প এলাকা গঠন করতে হবে।


তবে এই অভূতপূর্ব সাফল্য এবং লক্ষ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য বিরক্তিকর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবকাঠামো এবং তার থেকেও বাজে বাধা রাজনৈতিক বিভক্তি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সর্বদা কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যার সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির। এই দুই নেতাই পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছেন এবং কারাবরণ করেছে বিগত কয়েক দশকে। জনকণ্ঠ ।


 

User Comments

  • ব্যবসা ওঅর্থনীতি