২১ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:২১:০৬
logo
logo banner
HeadLine
রক্তচোষা ব্যবসায়ী ও গুজব রটনাকারী দুই-ই সমান অপরাধী * দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা * গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান * প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবুধাবির যুবরাজের সৌজন্য সাক্ষাত, আমিরাতের শ্রমবাজার খুলে দেয়ার ইঙ্গিত * শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন আতঙ্কের নাম বুলিং * ক্ষুদ্র ঋণের কাঙ্ক্ষিত সুফল মানুষ পায়নি : প্রধানমন্ত্রী * ডায়াবেটিস : সারা জনমের রোগ * শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে অপ্রীতিকর বক্তব্য দেওয়ার সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা * সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী * ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তূর্ণা -ঊদয়ন সংঘর্ষ, নিহত ১৫ আহত শতাধিক * রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার মামলা * দূর্বল হয়ে পড়ছে 'বুলবুল', বন্দরসমূহে ৩ নং সতর্ক সংকেত * খুনীদের জন্য এত মায়া কান্না কেন * ভারতের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম জয় * জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু * ২ থেকে ৭ নবেম্বর বিপ্লব নয়, ষড়যন্ত্র হয়েছিল * জুয়াড়ীদের সাথে কথোপকথনের জেরে দুই বছর নিষিদ্ধ সাকিব, অভিযোগ স্বীকার করায় এক বছরের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ * অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, ধরা হবে সবাইকে - প্রধানমন্ত্রী * ন্যাম সম্মেলনে যোগদান শেষে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী * ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী * নুসরাত হত্যায় সিরাজসহ অভিযুক্ত ১৬ জনেরই ফাঁসি * আলোচনা ফলপ্রসূ, আমরা খুশি, খেলায় ফিরছি: সাকিব * সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটাররা, দাবি বেড়ে এখন ১৩টি * ক্রিকেটারদের দাবি মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত বিসিবি * ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের খেলা বর্জন * আরও ১টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ৭টি থানার অনুমোদন * সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের শুদ্ধি অভিযান * ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে - অভিজিৎ ব্যানার্জি * হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মূল কারণ চিনি * সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতি *
     04,2019 Thursday at 16:48:08 Share

চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে : বেজিংয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে : বেজিংয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সকলের সঙ্গে বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গত ৭০ বছরে চীন নিজেকে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চীনের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থী যারা চীনে লেখাপড়া করছে তাদের আমি বলব এই দেশটির কাছ থেকে তারা অনেক কিছুই শিখতে পারে, কি করে চীনের জনগণ দিনরাত এত পরিশ্রম করে’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সন্ধ্যায় লিজেনডেল হোটেলে তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় একথা বলেন। খবর বাসস’র।


বেইজিংয়ের বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে চীন প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর উপলক্ষে এই সংবর্ধনার আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এ্যানুয়াল মিটিংয়ে যোগদান উপলক্ষে এক দ্বিপাক্ষিক সরকারী সফরে চীনে অবস্থান করছেন। সফরকালে তার চীনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। পরারাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নই করছে না, উপরন্তু দেশের পররাষ্ট্র নীতি-সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, এর আলোকে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবেও সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।


এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রশ্ন করা হয়েছিল- বাংলাদেশ কিভাবে একইসঙ্গে ভারত এবং চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখছে। তিনি বলেন, ‘এর উত্তরে তাদের বলেছি যে, ওই দুটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কোন সমস্যাই নয়।’ বাংলাদেশ প্রতিবেশীসহ সকলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি এবং যে কারণে কারও সঙ্গেই আমাদের বিরূপ সম্পর্ক নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের সঙ্গে সুস্পর্ক বজায় থাকায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসছে। আর বিনিয়োগ তখনই আসে যখন দেশে স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান থাকে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিকাশ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, চীনের সহযোগিতায় কর্ণফুলী টানেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকার করণেই তা সম্ভব হচ্ছে।


ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যাসমূহ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা দেখা গেছে যে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছিটমহল বিনিময়কালে যুদ্ধ বেঁধে যায় কিন্তু ভারতের জনগণ বাংলাদেশের বিষয়ে একতাবদ্ধ ছিল। কেননা ভারতীয় সংসদে দল মত নির্বিশেষে সকলের সর্বসম্মতিক্রমে সীমান্ত আইনটি অনুমোদিত হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময় করেছি এবং এটা বিশ্বে একটি অনন্য উদাহরণ। এভাবেই সকল সমস্যার সমাধান করে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বিগত একদশকে দেশের চমকপ্রদ আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশ তখনই উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করে যখন এর স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা এবং ত্যাগ স্বীকার করা শক্তি তথা জনগণের জন্য শুভ শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে।’ ‘আপনারা এর প্রমাণ দেখেছেন’ উল্লেখ করে তিনি ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশে বলবৎ থাকা অপশাসনের স্মৃতিচারণ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তখন কেন দেশের উন্নতি হয় নাই। আমি জানি না আপনারা এর কি কারণ খুঁজে পাবেন। কিন্তু কারণটা খুবই পরিষ্কার যে, যারা দেশের স্বাধীনতাই কখনও চায়নি এবং যারা এখনও পাকিস্তানের জন্য অন্তরে দরদ অনুভব করে তাদের কাছ থেকে দেশের জন্য কিছুই আশা করা যায় না, বলেন তিনি।


তার সরকারের সময়ে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ কেবল চমকপ্রদ জিডিপি প্রবৃদ্ধিই বজায় রাখেনি জনগণের মাথাপিছু আয়ও বৃদ্ধি করেছে। যা কিনা বর্তমানে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার এবং শীঘ্রই ২০০০ ডলারে উন্নীত হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার দারিদ্র্যসীমা ২১ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। যা ১৯৮১ সালে ৫১ শতাংশ এবং ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত ৪১ শতাংশ ছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এই দারিদ্র্যের হারকে অন্তত ১৬/১৭ ভাগে নামিয়ে আনা। বাংলাদেশ একদিন দারিদ্র্যমুক্ত হবে ইনশাল্লাহ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতি দারিদ্র্যের হারকে ইতোমধ্যে ১১ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই হারকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতি ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে। আর সে সময়ে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে কোন ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থাকবে না।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে কিছু লোক আছে যারা কিছুতেই স্বস্তি বোধ করে না। আমরা যা কিছুই করি না কেন, এতে তারা ভাল কিছু দেখে না। চোখ থাকতেও তারা অন্ধ, তাদের কি রকম জ্ঞান, বুদ্ধি বা বিবেচনা আমি বুঝি না। তারা আসলে কি চায়?’ এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র বজায় না থাকা। কারণ দেশে গণতন্ত্র থাকলে তাদের নাকি মূল্যায়ন হয় না।’ ‘দেশে সামরিক শাসন বজায় থাকলে বা জরুরী অবস্থা এলে এবং কেউ সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলে তাদের মূল্যায়ন হয়’, যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ তার চমকপ্রদ উন্নয়নের জন্য সারাবিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এই সাফল্যকে ধরে রাখতে হবে। কেবল প্রশংসা শুনে বসে থাকলে চলবে না। আমাদের আরও কাজ করে আরও শ্রম দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

User Comments

  • আরো