২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৬:১:৪৩
logo
logo banner
HeadLine
১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের খেলা বর্জন * আরও ১টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ৭টি থানার অনুমোদন * সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের শুদ্ধি অভিযান * ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে - অভিজিৎ ব্যানার্জি * হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মূল কারণ চিনি * সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতি * যুবলীগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রবিবার, বৈঠকে থাকছেন না ওমর ফারুক চৌধুরী * পাপ পুণ্যের দানবে অসহায় মানুষ * র্যা গিংয়ের শিকার হলে নালিশ করুন, বিচার হবে : আইনমন্ত্রী * চট্টগ্রামে তিন মেট্রোরেল নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ * আরও দু'টি মেট্রোরেল রাজধানীতে * এক বাঙালিসহ অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন ৩ জন * বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনারও রোল মডেল : প্রধানমন্ত্রী * ছাত্র রাজনীতি কিংবা ছাত্রলীগ নয়, টার্গেট সরকার * হঠাৎ চারদিকে কেমন যেন অস্বস্তি * ইউনিয়ন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী * রসায়নে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী * দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এটা হতে পারে না * পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী * অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ অটুট থাকবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর * হাসিনা-মোদী বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত ৭ চুক্তি, ৩ প্রকল্প উদ্বোধন * পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান * আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী * উন্নয়নের উইপোকা দমনে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত * কোনো অন্যায় হলে তার ব্যবস্থা আমিই নেবো, সেটা যে-ই হোক - প্রধানমন্ত্রী * রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী * 'রাজহংস' উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা * মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি - প্রধানমন্ত্রী * জনগণের আস্থায় যেন ফাটল না ধরে, সজাগ থাকতে হবে *
     28,2019 Sunday at 06:55:22 Share

ডেঙ্গু : প্রকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ডেঙ্গু : প্রকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

এখন ডেঙ্গু জ্বরের সময়। ডেঙ্গু একটি ভাইরাস যা ডেঙ্গু রোগ তৈরি করে। আর এই ভাইরাসের বাহক হল এডিস মশা। অন্য মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় না। তবে অন্য মশার সাথে এর পার্থক্য হল এই মশা দিনে কামড়ায় বেশিরভাগ সময়ে। এ মশা ডোরাকাটা ,দেখলে সহজেই আলাদা করা যায়৷ সম্প্রতি হাসপাতাল গুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিছু মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই এখনই জেনে নিন ডেঙ্গু সম্পর্কে ।


মোট ৩ প্রকারের ডেঙ্গুর লক্ষণ গুলো জেনে নিন:


ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু :


এই ধরণের জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর ১০২ থেকে ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয় যে মনে হয় হাঁড় ভেঙে যাচ্ছে। তাই এই জ্বরের আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’।


জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচদিনের সময় সারা শরীরজুড়ে লালচে দানা দেখা যায়। যাকে বলা হয় স্কিন র‍্যাশ, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এর দুই বা তিনদিন পর আবার জ্বর আসে। একে ‘বাই ফেজিক ফিভার’ বলে।


ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর:


এই অবস্থাটা সবচেয়ে জটিল। এই জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরো যে সমস্যাগুলো হয়, সেগুলো হলো :



  • শরীরে বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়। যেমন : চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সাথে, রক্ত বমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে। মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে থাকা ইত্যাদি হতে পারে।

  • এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।


ডেঙ্গু শক সিনড্রোম:


ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াভহ রূপ হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণ হলো :



  • রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া।
    • নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হওয়া।
    • শরীরের হাত-পা ও অন্যান্য অংশ ঠান্ডা হয়ে যায়।
    • প্রস্রাব কমে যায়।
    • হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে।
    • এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।


কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন :


ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসা যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। যেমন :



  • শরীরের যেকোনো অংশে রক্তপাত হলে
    • প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে
    • শ্বাস কষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি আসলে
    • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে
    • জন্ডিস দেখা দিলে
    • অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে
    • প্রচণ্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে।


কী কী পরীক্ষা করা উচিত?


আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বর হলে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দরকার নেই, এতে অযথা অর্থের অপচয় হয়।



  • জ্বরের চার থেকে পাঁচদিন পরে সিবিসি এবং প্লাটিলেট করাই যথেষ্ট। এর আগে করলে রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকে এবং অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। প্লাটিলেট কাউন্ট এক লাখের কম হলে ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

  • ডেঙ্গু অ্যান্টিবডির পরীক্ষা পাঁচ থেকে ছয়দিনের পর করা যেতে পারে। এই পরীক্ষা রোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করলেও রোগের চিকিৎসায় এর কোনো ভূমিকা নেই। এই পরীক্ষা না করলেও কোনো সমস্যা নেই। এতে শুধু শুধু অর্থের অপচয় হয়।

  • প্রয়োজনে ব্লাড সুগার, লিভারের পরীক্ষাগুলো যেমন এসজিপিটি, এসজিওটি, এলকালাইন ফসফাটেজ ইত্যাদি করা যাবে।

  • চিকিৎসক যদি মনে করেন রোগী ডিআইসি জাতীয় জটিলতায় আক্রান্ত, সে ক্ষেত্রে প্রোথ্রোম্বিন টাইম, এপিটিটি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি পরীক্ষা করতে পারেন।


চিকিৎসা :


ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত পাঁচ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে। যাতে ডেঙ্গুজনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা না হয়। ডেঙ্গু জ্বরটা আসলে গোলমেলে রোগ, সাধারণত লক্ষণ বুঝেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।



  • সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।
    • যথেষ্ট পরিমাণে পানি, ভিটামিন সি, শরবত, ফলের জুস,ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।
    • খেতে না পারলে দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে।
    • জ্বর কমানোর জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল-জাতীয় ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় ব্যথার ওষুধ কোনোক্রমেই খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়বে।
    • জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছাতে হবে।


ডেংগু জ্বরের লক্ষণ:


১। জ্বর সাধারণত ১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ।
২। হাড়ে ,পিঠে এবং জয়েন্টে ব্যথা। এজন্য এর আরেক নাম ব্রেক বোন ফিভার।
৩। মাথা ও চোখের চারপাশে ব্যথা। মাসল এ ব্যথা, পেটে ব্যথা।
৪। ক্ষধামন্দা, মুখে স্বাদ না থাকা,দুর্বল লাগা।
৫ মুখ লালচে হয়ে যাওয়া।
৬। গায়ে র‍্যাশ ওঠা।
৭।দাঁতের মাড়ি, নাক বা শরীরের কোন কোন স্থান থেকে রক্ত পাত হওয়া।
৮।পায়খানা, প্রশ্রাবে রক্ত যাওয়া।
৯। প্রস্রাবের পরিমাণ অনেক কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া।
***মনে রাখবেন, ১-৪ সাধারণ ডেংগু জ্বর সহ সকল ভাইরাস জ্বরেই হয় । তাই আগেই ভয় পাবেন না। রক্তপাত সহ পরবর্তী গুলো হেমোরেজিক ডেংগু জ্বরের লক্ষণ । ১-৪ লক্ষণ থাকলেই ডাক্তারের কাছে যেয়ে নিশ্চিত হোন আপনার ডেংগু কিনা। তাদের পরামর্শ নিন। ৭, ৮ হেমোরেজিক ডেংগুতে হয়। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব কমে গেলে বুঝতে হবে রোগীর জীবন বিপন্ন ।


 


চিকিৎসা:


১।ডেংগু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে এবং প্রচুর তরল খাবার,স্যালাইন ও পানি খাওয়াতে হবে। ডেংগু রোগী কে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট চিকিৎসক তিন বা চারবার খেতে দেবেন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ মিগ্রা/প্রতি কেজি বাচ্চার ওজন অনুসারে চার বেলা দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাচ্চার ওজন ৪ কেজি হলে সর্বোচ্চ ১৫*৪=৬০ মিগ্রা দিনে ৪ বার দেবেন। এক চামচে ১২০ মিগ্রা ওষুধ থাকে। তাহলে এক্ষেত্রে দেবেন আধা চামচ ৬-৮ ঘন্টা পর পর ।এর বেশি না। এর বেশি হলে ক্ষতি হবার সম্ভবনা আছে।
২।বার বার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দেবেন। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি নেবেন না।
৩।যদি প্লেটলেট অনেক কমে আসে তবে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত/প্লেটলেট দিতে হতে পারে। তাই অবশ্যই নিজের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখবেন।
৪। শকে গেলে বা অবস্থা খারাপ হলে ICU সাপোর্ট লাগতে পারে।
উপরে উল্লেখিত ১ শুধু বাসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ি। বাকি গুলো শুধু হাসপাতালে পাওয়া যাবে।
**মনে রাখবেন
ডেংগু ভাইরাস বাহিত রোগ। তাই এন্টিবায়োটিক এর কোন ভূমিকা এই চিকিৎসায় নেই ।
ডেংগু রোগীকে কখনোই প্যারাসিটামল ছাড়া জ্বর বা ব্যথার জন্য অন্য অষুধ দেওয়া যাবে না।
এসপিরিন, কিটোরোলাক, আইবুপ্রোফেন ,ডাইক্লোফেনাক প্রভৃতি কোন৷ NSAID. জাতীয় ওষুধ কখনোই খাবেন না।এই ওষুধের জন্য সাধারণ ডেংগু ,হেমোরেজিক হয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করে জীবন সংশয় ডেকে আনতে পারে। তাই কিছু কষ্ট সহ্য করতে হলেও নির্দেশনা মানবেন। একটু কষ্টের চেয়ে জীবন বড়।
যারা হার্টের কারনে এসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল জাতীয় ওষুধ খান তারা চিকিৎসক এর অনুমতি ছাড়া খাবেন না।


ঝুঁকি পূর্ণ রোগী কারা?

যাদের ক্ষেত্রে সহজেই খারাপ অবস্থা হবার সম্ভবনা থাকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ রোগী । এদের অবশ্যই বাড়তি যত্ন এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতে হবেঃ
১। নবজাতক ও বয়স্ক রোগী
২। গর্ভবতী মহিলা
৩।যাদের হিমোলাইটিক রোগ (যেমন থ্যালাসেমিয়া) আছে।
৪। জন্মগত হার্টের সমস্যা
৫।যেসব রোগী স্টেরয়েড এবং NSAID জাতীয় ব্যথার ওষুধ নিয়মিত খান
৬।যেসব মহিলার মাসিক এ রক্তক্ষরণ বেশি হয় এবং মাসিক চলাকালীন সময়ে ডেংগু হলে
৭।ডায়েবেটিস, কিডনি সমস্যা, এজমা, লিভার সিরোসিস এবং হার্টের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত যাদের নিয়মিত চিকিৎসা র মাঝে থাকতে হয়।
৮।যারা লোকালয় থেকে দূরে থাকেন বা একাকি থাকেন, হঠাৎ বেশি খারাপ হলে যাদের হাসপাতালে আনা কষ্টকর ।


কখন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হবেন?
১।আস্তে আস্তে শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা র পরেও।
২।প্রচন্ড পেট ব্যথা ,সাথে বমি
৩।রক্তপাত, পায়খানা প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া, মুখ দিয়ে রক্ত আসা, মাসিকে অত্যধিক রক্তযাওয়া। পায়খানার রঙ কালো হয়ে যাওয়া।
৪।হাত, পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
৫। অনেক কম প্রস্রাব হওয়া বা ৪-৬ ঘন্টা একেবারেই না হওয়া
৬। উপরে উল্লেখিত ঝুঁকি পূর্ণ রোগীদের কোন সমস্যা হলে।


 


 


প্রতিরোধ :


ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে, এডিস একটি ভদ্র মশা, অভিজাত এলাকায়, বড় বড়, সুন্দর সুন্দর দালান কোঠায় এরা বসবাস করে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে।


ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।



  • বাড়ির আশপাশের ঝোঁপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
    • যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে।
    • ঘরের বাথরুমে বা কোথাও জমানো পানি পাঁচদিনের বেশি যেন না থাকে। অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।
    • এডিস মশা সাধারণত সকালে ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য কোনো সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীরে ভালোভাবে কাপড় ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের দরজা-জানালায় নেট লাগাতে হবে।
    • দিনের বেলায় মশারি টাঙ্গিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।
    • বাচ্চাদের যারা স্কুলে যায়, তাদের হাফ প্যান্ট না পরিয়ে ফুল প্যান্ট পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে।
    • মশা নিধনের স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে।
    • ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে কোনো মশা কামড়াতে না পারে।


ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি এদেশে আগেও ছিল, এখনো আছে, মশা প্রজননের এবং বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।

User Comments

  • স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা