২৭ জানুয়ারি ২০২০ ৩:১৫:৫৪
logo
logo banner
HeadLine
দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত করে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী * রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দিয়েছে আইসিজে * বসলো পদ্মাসেতুর ২২তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৩৩০০ মিটার * হাঁচি-কাশির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় * ৮২৩৮ ঋণখেলাপীর তালিকা প্রকাশ * দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে: শেখ হাসিনা * শুক্রবার টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী * ইমিগ্রেশন সেবাকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ই-পাসপোর্ট প্রদান করছি - প্রধানমন্ত্রী * উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনসহ ৮টি প্রকল্প অনুমোদন * সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পারি যেভাবে * খসড়া তালিকা প্রকাশ, ভোটার ১০ কোটি ৯৬ লাখ * 'চট্টগ্রাম গণহত্যা' মামলায় ৫ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড * মঙ্গলবার থেকে কমতে পারে তাপমাত্রা, হতে পারে বৃষ্টি * ২২ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন * ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু * শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের সাজা মৃত্যুদণ্ড দিতে হাইকোর্টের রুল * ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা * ঢাকা সিটি ভোট ২ দিন পেছালো * সারা দেশে ওয়ানটাইম প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ * আরও ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে * ২৫ জানুয়ারী থেকে সব কোচিং সেন্টার এক মাস বন্ধ * আইটি খাতের আয় পোশাক খাতকে ছাড়িয়ে যাবে : জয় * বসলো ২১তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৩১৫০ মিটার * মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১ কোটি গাছের চারা বিতরণ করবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয় * আবুধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী * প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি যাচ্ছেন আজ * জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বিজয়ের পরিপূর্ণতা অর্জন * মুজিববর্ষ : কাউন্টডাউন শুরু বাঙালী জাতি ও স্বাধীনতা নতুন করে আবিষ্কার করবে * ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের তাৎপর্য * মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী *
     04,2019 Wednesday at 18:26:53 Share

বছরের প্রথম দিনই চার কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হবে ৩৫ কোটি বই

বছরের প্রথম দিনই চার কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হবে  ৩৫ কোটি বই

 ১১ বছরে বিতরণ করা হয়েছে ৩৩১ কোটি; সরকারের ব্যয় ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি; প্রায় শতভাগ শিশুর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিম-লেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে; ৯৯ শতাংশ বই পৌঁছে গেছে উপজেলা পর্যায়ে


 


জনকণ্ঠ :: আগামী ’২০ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চার কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার কপি বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রস্তুত। উপজেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে প্রায় ৯৯ শতাংশ পাঠ্যবই। বছরের প্রথম দিন দেশজুড়ে স্কুলে স্কুলে উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হবে নতুন ঝকঝকে পাঠ্যবই। শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে শামিল হবে উৎসবে। এদিকে সরকারের যুগান্তকারী এ কর্মযজ্ঞের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৯৬ কোটি পাঠ্যবই বিতরণ করেছে সরকার। আগামী বছরের বইয়ের সংখ্যা যুক্ত করলে এ সংখ্যা হবে ৩৩১ কোটি ৫২ লাখ। যেখানে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি।


সরকার আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪ কপি পাঠ্য বই ছেপেছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ১০ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৩৭৫ কপি, মাধ্যমিক স্তরের ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯ কপি। বই বিতরণের সর্বশেষ অবস্থার কথা জানিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, বরাবরের মতো এবারও কিছু অসাধু মুদ্রাকর নিম্নমানের কাগজে বইছাপার অপচেষ্টা করেছে। নিম্নমানের কাগজ দিয়ে ছাপার কারণে হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন বহু অসাধু ব্যবসায়ী। এনসিটিবি ও মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে ধরা পড়েছে অন্তত ১৮ প্রতিষ্ঠান। বাতিল করা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন কাগজ।


নিম্নমানের ছাপা, মলাট ও ভুলে ভরা ছবিসহ নানা কারণে কেটে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পড়ার অযোগ্য এক লাখ কপি বই। ৬০ লাখ কপি ছাপা হলেও কাগজ ও ছাপার মান ভাল না হওয়ায় সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি শেষ সময়ে পড়ার অযোগ্য বই দেয়ায় শাস্তির মুখে পড়ছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। এনসিটিবি বইয়ের মান রক্ষায় কঠোর অবস্থানে জানিয়ে চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেছেন, কিছু সমস্যা থাকলেও আমাদের বইয়ের প্রায় শতভাগই উপজেলায় চলে গেছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৯৯ শতাংশ বই পৌঁছে গেছে। এ সপ্তাহেই শতভাগ বই উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাবে। শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ও উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় সফল এ বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা যাচ্ছে বলে জানান এনসিটিবি কর্মকর্তারা।


কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব চাপের উর্ধে উঠে কাজ করার জন্য সব সময় সাহস যুগিয়েছেন মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী। তবে এক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা রোধ করে নির্ভয়ে কাজ করা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন কারিকুলাম তৈরিতে সর্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীকে ধন্যবাদও দেন তারা।


নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, তিনি নিয়মিত পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণ কাজ তদারকি করছেন। এমনকি পাঠ্যবই ও কারিকুলামের সমস্যা নিয়েও তিনি নিজে কাজ করছেন। কিভাবে কারিকুলামসহ বইয়ের মান উন্নত করা যায় তা নিয়ে পরামর্শও দেন উপমন্ত্রী। মাধ্যমিকের গণিতসহ বিজ্ঞান ও অন্য বিভাগের কিছু বইয়ে থাকা কনটেন্টগুলোর সমস্যা শিক্ষার্থীরা কিভাবে সমাধান করতে পারে তার উপায় খুঁজতেও পরামর্শ দিয়েছেন উপমন্ত্রী। বইয়ের জটিল সব বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সব ধরনের সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন বই নিশ্চিতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছে বলে বলছেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা।


এবার দরপত্রের শর্তানুযায়ী গত ১৫ নবেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পনেরো/বিশটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে বই দিতে পারেনি। কেউ কেউ পাঠ্যপুস্তকে নিম্নমানের কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণও ব্যবহার করেছে। মুদ্রণশিল্প সমিতির এক শীর্ষ নেতার প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের কাগজে ছাপা হওয়া প্রায় ৩০ লাখ কপি বই গ্রহণ করতে এনসিটিবির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছেন। অপর একটি প্রতিষ্ঠানের কাছেও ৩০ লাখ কপি বই আটকে রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের প্রায় ৫৫ লাখ এবং মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ২৩ লাখ কপি বই ছাপা বাকি রয়েছে।


এনসিটিবির সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম  বলেন, যারা নির্ধারিত সময়ে বই দিতে পারেনি তাদের ওই লটের বইয়ের মোট টাকার (মূল্য) ওপর ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। কেউ মাফ পাবে না। আর নিম্নমানের একটি বইও এনসিটিবি গ্রহণ করবে না। বইয়ের মানের ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে আপোসও করা হচ্ছে না।


একই কথা বললেন বিতরণ নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জিয়াউল হকও। তিনি বলেছেন, আমরা কাজের প্রতিটি পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পেয়েছি। মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সর্বক্ষণিক সমর্থন ছিল বলেই আমরা সব বাধা কাটিয়ে কাজ করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৩৭৫ ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯ কপি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৯৯ শতাংশ বই উপজেলায় চলে গেছে। বাকি বই এ সপ্তাহেই চলে যাবে।


এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলছিলেন, বইয়ের প্রায় ৯৯ শতাংশই উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে চলে গেছে। বছরের প্রথম দিন বিতরণ করা হবে বই। বিতরণ পরিস্থিতি খুবই ভাল। চেয়ারম্যান প্রতিকূলতা কাটিয়ে সফলতার সঙ্গে কাজ করতে সহযোগিতার জন্য মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মহোদয় আমাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন, মনিটরিং করেছেন বলেও বাধা কাটিয়ে কাজ করা সম্ভব হয়েছে। কারিকুলাম ও বইয়ের মানোন্নয়নের বিষয়ে উপমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারিকুলাম, টেক্সটের মানোন্নয়নের বিষয়ে মাননীয় উপমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা আমাদের কাজকে এগিয়ে নিতে বিশেষভাবে সহায়তা করছে।


এবার বই ছাপা ও বিতরণের শেষ পর্যায়ে এসে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল এনসিটিবিকে। বই বিতরণ কাজের মধ্যেই অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা সামাল দিতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে এনসিটিবিকে। মান মূল্যায়নের কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠান ব্যুরো ভার্টিটাস বাংলাদেশ (প্রাইভেট) লিমিটেড ও কন্টিনেন্টাল ইনস্পেকশন বিডি লিমিটেডকে সামাল দিতে হয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের মূল কর্মকা-।


অভিযোগ পাওয়া গেছে, আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিদেশী প্রতিষ্ঠান ঠেকাতে এবার প্রাক্কলিত দরের চেয়ে কমমূল্যে প্রাথমিক স্তরের সব বই ছাপার কাজ নিয়েছিল দেশী কিছু মুদ্রাকর (প্রিন্টার্স)। অনেক প্রতিষ্ঠানই কমদামে কেনা নিম্নমানের কাগজে বই ছেপে লাভ পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।


শর্ত লঙ্ঘন করে নিম্নমানের কাগজে পাঠ্যবই মুদ্রণের চেষ্টা করেছে অসাধু প্রিন্টার্সরা (ছাপাখানার মালিক)। অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম জানান, নিম্নমানের কাগজে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপার উদ্যোগ নেয়ায় ১৮ ছাপাখানার এক হাজার ৭৬১ মেট্রিক টন কাগজ বাতিল করে শর্ত অনুযায়ী পুনরায় কাগজ কিনে বই ছাপতে বাধ্য করেছে এনসিটিবি।


প্রাথমিক স্তরেও নিম্নমানের কাগজ সরবরাহ করায় কয়েকটি কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১শ’ মেট্রিক টন কাগজ ছাপার অযোগ্য ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এছাড়া এনসিটিবি’র শর্তের তোয়াক্কা না করে বই ছাপায় সাতটি ছাপাখানার প্রায় এক লাখ কপি বই কেটে দিয়েছেন।


নিম্নমানের কাগজে বই ছাপাসহ নানা অনিয়মের কারণে সাতটি ছাপাখানার প্রায় এক লাখ কপি বই ধ্বংস করে দিয়েছে এনসিটিবি পরিদর্শকরা। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হুমায়রা প্রিন্টার্সের ৩৮০ কপি, লেটার এ্যান্ড কালার প্রিন্টিং প্রেসের চার হাজার পাঁচ শ’ কপি, বুকম্যান প্রিন্টিং প্রেসের তিন হাজার ৫০ কপি, ভাই ভাই প্রিন্টিং প্রেসের ২৬ হাজার ৯২০ কপি, নুরুল ইসলাম প্রিন্টিং প্রেসের ৫০ হাজার কপি ও শ্রাবণী প্রিন্টার্সের পাঁচ শ’ কপি বই ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া রেজা প্রিন্টার্সের তিনটি পাঠ্যপুস্তকের ফর্মা নষ্ট করা হয়েছে।


জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপতে নিম্নমানের কাগজ কেনায় ১৮ প্রতিষ্ঠানের কাগজ ছাপার অযোগ্য ঘোষণা ও বাতিল করেছে এনসিটিবি। ওসব প্রতিষ্ঠানকে শর্ত অনুযায়ী কাগজ কিনে বই ছাপতে বাধ্য করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে অনুপম প্রিন্টার্সের ৮০ টন।


আরো আছে ফাহিম প্রিন্টিং এ্যান্ড পাবলিকেশন্সের ১২, ফাইভ স্টার প্রিন্টিং এ্যান্ড পাবলিকেশন্সের ৫০, নাহার প্রিন্টার্সের ২৬, নিউ সুজন আর্ট প্রেসের ৭২, কাশেম এ্যান্ড রহমান প্রিন্টিং প্রেসের ৩০, কোহিনূর আর্ট প্রেসের ২৫, সৃষ্টি প্রিন্টার্সের ১৫, পেপার প্রসেসিং এ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের ২৫, কমলা প্রিন্টার্সের ৭৩, ইন্টারনেট ওয়েব প্রিন্টার্সের ৪০, হক প্রিন্টার্সের ৩০, সিটি সানজানা আর আর রূপালীর ৫০, নাজমুন নাহার প্রেসের ১৩, করতোয়া প্রিন্টার্সের ২০ এবং আনমল নিউ অফসেট প্রেসের ১০ মেট্রিক টন কাগজ বাতিল করা হয়েছে। এসব কাগজ ৬০ জিএসএমের কম ছিল ঔজ্জ্বল্যও কম ছিল।


এদিকে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জন্য বই বিতরণের যে কর্মযজ্ঞ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আলোচনা চলছে তার পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৯৬ কোটি আট লাখ বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করেছে সরকার। আগামী বছরের জন্য প্রস্তুত করা বইয়ের সংখ্যা যোগ করলে মোট পাঠ্যবই দাঁড়ায় ১১ বছরে ৩৩১ কোটি ৫২ লাখ কপি। যে কাজে সরকারের ব্যয় হয়েছে নয় হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে আগামী বছরের জন্য প্রস্তুত করা বইয়ে সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ১১ কোটি টাকারও বেশি।


সরকারের এ বিশাল কর্মযজ্ঞের তথ্য দেখলেই স্পষ্ট হয় প্রায় প্রতিবছরই বেড়েছে বিনামূল্যের বইয়ের সংখ্যা। বেড়েছে শিক্ষার্থী বিশেষ করে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। শিক্ষাবিদসহ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনামূল্যের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনেছে, যা দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে। তথ্য বলছে, গত ১১ বছর আগে দেশে বিদ্যালয়ে আসা শিশুদের হার ছিল ৮০ শতাংশের একটু বেশি। কিন্তু ১০ বছরের মাথায় এখন প্রায় শতভাগ শিশু স্কুলে আসছে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। স্কুলে শতভাগ শিশুর উপস্থিতিকে বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।


শতভাগ বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের প্রথম বছর বইয়ের সংখ্যা ছিল ’১০ সালে ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬১ কপি, ২০১১ সালে ২৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ২৩৪ কপি, ’১২ সালে ২২ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৩ কপি, ’১৩ সালে ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ১০৬ কপি, ’১৪ সালে ৩১ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার ৫২৬ কপি, ২০১৫ সালে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩ কপি, ’১৬ সালে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ কপি, ২০১৭ সালে বই ছিল ৩৬ কোটি ২১, লাখ ৮২ হাজার ২৪৫ কপি ’১৮ সালে বইয়ের সংখ্যা ছিল ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ কপি। এ বছর ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি। আর আগামী বছরের জন্য বই লাগবে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার কপি।


বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ১৯৮৩ সাল থেকে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যের কিছু পাঠ্যবই বিতরণ শুরু করে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত কয়েকটি ক্যাটাগরির কেবল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অর্ধেক নতুন ও অর্ধেক পুরনো পাঠ্যবই বিনামূল্যে দেয়া হতো। এসব বইও সময়মতো শিক্ষার্থীরা পেত না।


বই পেতে পেতে মার্চ/এপ্রিল পার হয়ে যেত। এতে ক্লাস শুরুতে অনেক দেরি হতো। প্রতিবারই অসাধু প্রেস মালিকদের সিন্ডিকেটের কবলে পড়ত পাঠ্যবই ছাপার কাজ। সময়মতো বই না পাওয়ায় এবং উচ্চদরে বাজার থেকে বই কিনতে না পেরে প্রতিবছর ব্যাপকসংখ্যক ছাত্রছাত্রী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকে ঝরে পড়ত। হাতেগোনা কয়েকটি দেশ বাদ দিলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই মোট জন্যসংখ্যাও চার কোটি নেই। সেখানে বছরের প্রথম দিনই দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চার কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর হাতে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি বই তুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ।

User Comments

  • জাতীয়