২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:৫৫:৫৮
logo
logo banner
HeadLine
২৫ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে নতুন শনাক্ত আরও ৪৩ * দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আছি বলেই সুফল পাচ্ছে জনগণ -প্রধানমন্ত্রী * এখন রাজনৈতিক কূটনীতি নয়, অর্থনৈতিক কূটনীতি চলছে -প্রধানমন্ত্রী * ২৫ সেপ্টেম্বার : আজ শনাক্ত ১৩৮৩, মৃত্যু ২১, সুস্থ ১৯৩২ * সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত * ২৪ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৫৩ * ২৪ সেপ্টেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ১৬৬৬, মৃত্যু ২৮ জন, সুস্থ ২,১৩৯ * ২৩ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৬৩ * জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * ২৩ সেপ্টেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ১৬৬৬, মৃত্যু ৩৭ জন, সুস্থ ২১৬৩ * ২২ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত আরও ৭৭ জন * ২২ সেপ্টেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ১৫৫৭, মৃত ২৮, সুস্থ ২০৭৩ * 'বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ' তৈরি করতে জাতিসংঘের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * ২১ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৫৬ * জাতিসংঘে এবারের ভার্চুয়াল অধিবেশনেও বাংলায় বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী * ২১ সেপ্টেম্বার : আজ শনাক্ত আরও ১৭০৫, মৃত ৪০, সুস্থ ২১৫২ * সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত * ২০ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৪৬ * ২০ সেপ্টেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ১৫৪৪ , সুস্থ ২১৭৯, মৃত ২৬ * শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, তাই প্রস্তুতি নিন : প্রধানমন্ত্রী * ১৯ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৫ * ১৯ সেপ্টেম্বার : আজ শনাক্ত ১৫৬৭, মৃত ৩২, সুস্থ * লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আল্লামা শফীর জানাজা সম্পন্ন, চিরশায়িত হলেন প্রিয় মসজিদ প্রাঙ্গণে * আল্লামা শফীকে শেষ বিদায় জানাতে হাটহাজারী আভিমুখে লাখো মানুষের ঢল * ১৮ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৬০ * শাহ আহমদ শফীর জানাজা বাদ জোহর, ৪ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন * হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী আর নেই, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক * ১৮ সেপ্টেম্বার : আজ শনাক্ত ১৫৪১, মৃত ২২ জন, সুস্থ ১,৯২৩ * ১৭ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৬৪ * দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর *
     04,2019 Wednesday at 18:32:45 Share

মেরিটাইম উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

মেরিটাইম উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

রিয়ার এডমিরাল এএসএম আব্দুল বাতেন (অব.) :: সমুদ্রের যে রহস্য তার সঠিক পরিসংখ্যানে অনেক অস্পষ্টতা আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানী লোকের বড়ই অভাব এবং এ বিষয়ে যথার্থ গবেষণা হয়নি বলে অদ্যাবধি অনেক কিছুই অনাবিষ্কৃত আছে। সমুদ্রের বিশাল জলভা-ার থেকে আমরা যে প্রধান ৭টি বিষয়ে প্রতিনিয়ত উপকৃত হচ্ছি, তা একবার মনে না করলেই নয়। এগুলো হচ্ছে-


(১) মানুষের বাঁচার জন্য যে অক্সিজেনের প্রয়োজন, তার ৭০% আসে সমুদ্র থেকে। অর্থাৎ প্রতি দশবার আমরা নিঃশ^াস নিলে তার মধ্যে সাতবারের অক্সিজেন আসে সমুদ্র থেকে।


(২) সমুদ্র ভূ-পৃষ্ঠের আবহাওয়া সর্বক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। সমুদ্র পৃথিবীর তাপ শোষণ করে তাপমাত্রার ভারসাম্যতা রক্ষাসহ বৃষ্টি ও ঝড় নিয়ন্ত্রণ করে। ভূ-পৃষ্ঠের ওপর পতিত সকল বৃষ্টির উৎপত্তিস্থল সমুদ্র।


(৩) সমুদ্রকে এক বিশাল খাদ্য ভা-ার বলা যায়। এর মধ্যে প্রধান আইটেম হলো প্রোটিন। মৎস্য এবং সী ফুডের যে যোগান সমুদ্র থেকে আসে, তাতে এক শ’ কোটির বেশি মানুষের প্রোটিন চাহিদা মিটছে।


(৪) সমুদ্র অগণিত সংখ্যক জীব ও উদ্ভিদের আবাসস্থল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমুদ্রের ভেতর ৩ লাখ মিলিয়ন বিভিন্ন প্রজাতির জীব রয়েছে। পৃথিবীর ৬০% মানুষ সমুদ্র উপকূলে বাস করে বিধায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানবকুল সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের ওপরই নির্ভরশীল।


(৫) সমুদ্র শুধু বিনোদনের মাধ্যমই নয়, যোগাযোগের অন্যতম উপকরণও বটে। পৃথিবীর সমুদয় বাণিজ্যের ৯০% হচ্ছে সমুদ্রের মাধ্যমে। সমুদ্র ব্যবহার করে আমরা দেশ থেকে দেশান্তরে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছি।


(৬) সমুদ্রের বিভিন্ন সম্পদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন পেশার সৃষ্টি হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, পৃথিবীর ৫৯.৬ মিলিয়ন মানুষ ফিশারিজ ও একুয়াকালচার পেশায় নিয়োজিত। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ৩.৪ মিলিয়ন লোকের এক বিশাল গোষ্ঠী সমুদ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে, যা বর্তমানে সুনীল অর্থনীতি বা ইষঁব ঊপড়হড়সু কর্মযজ্ঞের অন্তর্ভুক্ত। (৭) সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অফুরন্ত যোগসূত্র। বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় অনেক জটিল রোগের ওষধু আবিষ্কার হয়েছে সামুদ্রিক উদ্ভিদ, মৎস্য ও মিনারেল থেকে।


বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের অল্প কিছুদিন পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু করেন। তাঁর দূরদর্শিতায় সমুদ্র বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয় (ঞযব ঞবৎৎরঃড়ৎরধষ ডধঃবৎ ধহফ গধৎরঃরসব তড়হবং অপঃ ১৯৭৪)। স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রে জাতির পিতাকে আমরা দ্রুত হারিয়ে ফেলি। তাঁর অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক সমুদ্র নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন সাফল্য অর্জিত হয়নি। সমুদ্র সীমানা নিয়ে বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যে বিরোধ ছিল, তার নিষ্পত্তি না হওয়ায় সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারে কোন জোরালো পদক্ষেপও নেয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অসাধারণ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তাঁর সরকার দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে সমুদ্র নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে বিষয়টি এক আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপন করলে আদালতের রায়ে সমস্যাটির সুন্দর নিষ্পত্তি হয় (মার্চ ২০১২ মিয়ানমার, জুলাই ২০১৪ ভারত)। আন্তর্জাতিক আদালতের এ রায়ের ফলে বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। সরকারী পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ^বিদ্যালয় আইন (২০১৩) প্রণয়ন। ওই আইনের ধারায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা নিয়োগ করে নতুন বিশ^বিদ্যালয় তৈরির কাজ শুরু হয়। অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাদানসহ স্থায়ী জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়। সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য চট্টগ্রামে ১০৮ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর মাস্টারপ্লান তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ অনুষদের ১২টি বিভাগে স্নাতক, স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে অস্থায়ী ক্যাম্পাসকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হবে। শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য দেশ ও বিদেশের ১২টিরও অধিক বিশ^বিদ্যালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি সম্পাদন করে বিভিন্ন পর্যায়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


পৃথিবীতে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা খুব বেশি নেই। তবে বাংলাদেশের উভয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রে মেরিটাইম বিশ^বিদ্যালয় চালু করা হয় আরও আগে। মিয়ানমার ২০০২ এবং ভারত ২০০৮-এ মেরিটাইম বিশ^বিদ্যালয় চালু করে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা দেরিতে স্থাপিত হলেও সেখানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (ঘওঙ) স্থাপিত হয়েছিল ‘গোয়া’ শহরে প্রায় ৫৩ বছর পূর্বে (১৯৬৬)। ওই প্রতিষ্ঠানে সমুদ্র বিষয়ে অনেক উন্নত মানের গবেষণার কাজ চলছে। অর্ধশতাধিক প্যাটেন্ট (চধঃবহঃ) সেখানে ইতোমধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে, যার ৬০% মেরিন-বায়োটেকনোলজির ওপর। আরও জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত গবেষণার জাহাজ (জবংবধৎপয ঠবংংবষ) নিয়ে বিজ্ঞানীরা নিয়মিত সমুদ্রে তাদের মূল্যবান গবেষণার কাজ করছেন।


উচ্চশিক্ষার বিষয়ে কে কত আগে কাজ শুরু করেছে এটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও কে কত সঠিকভাবে কাজ শুরু করতে পারছে তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উপমহাদেশে কিছু বিশ^বিদ্যালয় আছে যাদের বয়স শত বছর হতে চলেছে, কিন্তু বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে এ সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান প্রথম ১০০টির মধ্যে নেই। আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কিছু বিশ^বিদ্যালয় আছে (মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং) যাদের বয়স ৩০/৪০ বছর হবে। মানের দিক বিবেচনায় এরা পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এর প্রধান কারণ, এ সমস্ত বিশ^বিদ্যালয়ে সংখ্যা নয়, গুণগত মানকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তাদের মাঝে একটা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মনোভাব বজায় আছে। যার ফলে তারা ভবিষ্যত পরিকল্পনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করে তার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএসএআইডি (টঝঅওউ) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের শিল্প খাতে অদক্ষ শ্রমিকের হার অত্যন্ত বেশি। অন্যান্য শিল্প খাতের পাশাপাশি (সর্বনি¤œ ৭৩.৮০%, সর্বোচ্চ ৯৯.৯%) জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অদক্ষ শ্রমিকের হার ৮৪.৭০% দেখানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ শীর্ষ পর্যায়ে জনবলের বিরাট ঘাটতি নিয়ে আগামীতে শিল্পের বিকাশ অনেক কঠিন হবে। অতএব, এখন থেকেই বিশেষায়িত বিশ^বিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার কার্যক্রমে আরও বেশি নজর দেয়া অত্যন্ত জরুরী। দক্ষতার প্রকৃত চাহিদা সম্পর্কে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আরও ওয়াকিবহাল হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে মেরিটাইম উচ্চশিক্ষাকে কিভাবে আরও বাস্তবতার নিরিখে উন্নত করা যায় এবং ওই শিক্ষায় শিক্ষিত লোকের কর্মক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা যায়, এগুলো নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও কৌশল অবলম্বন করা দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে হলে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সামর্থ্য, দুর্বলতা, সুযোগ ও সম্ভাবনা এবং অন্যান্য হুমকি/চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও তার বাস্তবায়নে সঠিক ও জোরালো পদক্ষেপ/কৌশল গ্রহণ করতে হবে।


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মেরিটাইম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতির উন্নয়ন রূপকল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার পথে আরও নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেরিটাইম এফেয়ার্স ইউনিট এবং পাওয়ার এনার্জি এ্যান্ড মিনারেল রিসোর্স ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত ‘ব্লু ইকোনমি সেল’। ব্লু ইকোনমি সেলের বিস্তারিত কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় আছে। অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এদের কার্যক্রম জড়িত বিধায় ওই সেলের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত হলে আরও দক্ষতার সঙ্গে কার্য সম্পাদন সম্ভব হবে। মেরিটাইম বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে যে বিষয়গুলো অধিক কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো হচ্ছে :


(১) মেরিটাইম সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন মেরিন একাডেমি, ফিশারিজ একাডেমির ¯œাতক কোর্স মেরিটাইম বিশ^বিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তি।


(২) সংশ্লিষ্ট আইনে বিদেশী শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি।


(৩) বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সমন্বয়ে সিনেট, সিন্ডিকেট গঠন।


(৪) সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ। ঞৎধরহরহম ড়ভ ঃযব ঞৎধরহবৎ (ঞঙঞ) অর্থাৎ প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।


মেরিটাইম উচ্চশিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে যে সমস্ত বিষয়ে শূন্যতা বা ঘাটতি রয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে :


(১) বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকের ঘাটতি পূরণ।


(২) আধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত ল্যাবরেটরি এবং উপকরণ সংগ্রহ।


(৩) রিসার্চ ভেসেল এবং ট্রেনিং জাহাজের বন্দোবস্ত।


(৪) প্রয়োজনীয় ট্রেনিং সিমুলেটর সংগ্রহ।


শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে আজকাল বড় বড় কলাম লেখা হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ এখনও বিশ^মানের হয়নি। মেরিটাইম বিশ^বিদ্যালয়ের যে আইন পাস হয়েছে। তার মাধ্যমে নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং অভিজ্ঞ অধ্যাপক সমন্বয়ে গঠিত দলকে বিশ^বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর ফলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই কর্মক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে অভিজ্ঞ অধ্যাপকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এবং সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের (ংঃধশব-যড়ষফবৎ) সহযোগিতা বজায় থাকলে আশা করা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ^বিদ্যালয় অচিরেই আন্তর্জাতিক মানের বিশ^বিদ্যালয়ে পরিণত হবে। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার যে, যত্রতত্র বিশেষায়িত বিভাগ না খুলে মেরিটাইম বিশ^বিদ্যালয়ের একই ছাতার নিচে ছোট ছোট মেরিটাইম ইনস্টিটিউট থাকলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি সম্ভব হবে। কেননা সীমিত সম্পদ অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে ভাগাভাগি করলে কোন স্থানেই কার্যকরী (ঊভভবপঃরাব ্ ঊভভরপরবহঃ) শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। বিশেষায়িত বিশ^বিদ্যালয়ের মাধ্যমে নিজস্ব বিশেষজ্ঞ তৈরির দায়িত্ব জাতিকে নিতে হবে। নতুবা কষ্টার্জিত সমুদ্র বিজয়ের সুফল বিদেশী বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে আমাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।


লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (জনকণ্ঠ-এ প্রকাশিত)।

User Comments

  • কলাম