২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১৪:১৮:০০
logo
logo banner
HeadLine
করোনায় আক্রান্ত ৩৯ দেশ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৬৩, সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বাংলাদেশের * দিল্লি পৌঁছলো উহানে আটকে পড়া ২৩ বাংলাদেশিসহ ১১২ জন * এসএসসি পর্যন্ত বিষয় ভিত্তিক বিভাজন না রাখার পক্ষে মত দিলেন প্রধানমন্ত্রী * পিলখানা হত্যাকান্ড : পরাজিত শত্রুর ষড়যন্ত্র * বাংলাদেশের ঢোল এখন অন্যরা পেটাচ্ছে * কেউ করোনায় আক্রান্ত নন - আইইডিসিআর * একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা * একুশে পদক হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী * চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেন যারা * চিকিৎসার উদ্দ্যেশে বিদেশ যেতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন * সরকারী হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ * চসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেন রেজাউল করিম চৌধুরী * করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোয় ৫ জন পুলিশ হেফাজতে * করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫৭ জনে * বাংলার চারণ কবি শাহ বাঙালি * করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * আগামীকাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার * চাকরি না খুঁজে চাকরি দেয়ার চিন্তা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী * আজ থেকে চালু হচ্ছে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাত্রা * মুজিব বর্ষে তরুণ প্রজন্মের কাছে জাতির গৌরবোজ্জল ইতিহাস তুলে ধরতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান * 'জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে'- প্রধানমন্ত্রী * করোনা ভাইরাস :: লক্ষণ ও প্রতিকার * শিশুদের দিবাযত্ন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন * দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত করে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী * রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দিয়েছে আইসিজে * বসলো পদ্মাসেতুর ২২তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৩৩০০ মিটার * হাঁচি-কাশির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় * ৮২৩৮ ঋণখেলাপীর তালিকা প্রকাশ * দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে: শেখ হাসিনা * শুক্রবার টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী *
     08,2020 Saturday at 22:05:28 Share

বাংলার চারণ কবি শাহ বাঙালি

বাংলার চারণ কবি শাহ বাঙালি

আলাউদ্দিন আল আজাদ :: বাংলার চারণ কবি,বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর,এপার ওপার বাংলার গুণী শিল্পী মোহাম্মদ শাহ বাঙালির আসল নাম মোহাম্মদ শফি উল্লাহ। তিনি ১৯২৮ সালে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার ইজ্জতপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। শাহ বাঙালি ছিলেন একাধারে চারণ কবি, গনসঙ্গীত শিল্পী,ভাষা সৈনিক,স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের নিয়মিত শিল্পী,বঙ্গবন্ধুর জনসভার মঞ্চের নিয়মিত গায়ক গন জাগরনের নেতা। গানে গানে তিনি লড়েছেন ভাষার লড়াই, মুক্তিযুদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে। কণ্ঠে মাতিয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। সরব ছিলেন বিটিভি,বেতারে আর রাজনীতির মঞ্চে। শাহ বাঙালির পিতার নাম খুরশীদ আলম মিয়া। তিনিও সংগীত অনুরাগী ছিলেন। নিজে গান রচনা করে নিজেই গাইতেন। ভাই বোনের মধ্যে শাহ বাঙালি ছিলেন তৃতীয়। তাঁর অপর ভাই নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত উল্লাহ।৬ ছেলে মেয়ের জনক ছিলেন মোহাম্মদ শাহ বাঙালি। তিনি বিয়ে করেছিলেন টি। একজন মৃত্যুবরণ করেন।জীবনের শেষ সময় অতিবাহিত করেন দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে। মোহাম্মদ শাহ বাঙালি ইজ্জতপুর বোর্ড স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। স্কুল জীবনেই তিনি ছন্দ মিলিয়ে গান রচনা এবং নিজের সুরে গাওয়ার বিষয়টি আয়ত্ত্ব করেন। শাহ বাঙালি এমন এক বিরল প্রতিভা ছিলেন যিনি মুহূর্তের মধ্যে গান বানিয়ে গাইতে পারতেন।তিনি কখনো বেতার টেলিভিশনে আগাম কোনো স্ক্রিপ্ট জমা দিতেন না। গানের বিষয় শুনে রেকর্ডিং রুমে যেতেন। তাৎক্ষণিক কথা সুর করে গান করতেন তিনি। প্রতিটি গানের জন্য হাজার টাকা সম্মানি পেতেন তিনি,যা ছিল বেতারের সর্বোচ্চ সম্মানি।২০০২ সালে তারেক মাসুদ নির্মিত মাটির ময়না সিনেমায় তিনি একটি গানের দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন এবং গানটি তিনি স্বকন্ঠে গেয়েছিলেন। শাহ বাঙালি জীবনে কখনো অন্যের কথা সুরে গান করেননি। নিজের কথা সুরে হাজার হাজার গান গেয়েছেন। তাঁর লেখা সুরে গান গেয়ে অনেকে শিল্পীই বিখ্যাত হয়েছেন। শুধু গানে নয়, পুঁথি পাঠেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মাতিয়ে তুলতেন জাগরণের গান পুঁথি পাঠ করে। তিনি ব্রিটিশের দু:শাসন নিয়ে শৈশবে " ব্রিটিশ চলিলরে গাট্টি বোচকা লইয়াবীর বাঙালি আসো সবাই তৈরি হইয়া " গানটি গেয়ে প্রথম আলোচিত হন সন্দ্বীপের ইজ্জতপুর গ্রামে। দেশভাগের পরে (১৯৪৭/১৯৫০) সন্দ্বীপ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনে আয়োজিত এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে এলাকায় শিল্পী হিসেবে তার ডাকনাম ছড়িয়ে পরে।সেদিন উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন ছাতা, হারিকেন টর্চলাইট। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনকে চাঙ্গা করার জন্য তিনি গান রচনা করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সময় শাহ বাঙালির গানটি ছিল, " ওরে বাঙালি/ভাষার তরে ঢাকার শহর/বুকের রক্তে রাঙ্গালি / আর কত দুঃখ সইবে বাঙালি "১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রণ্ট নির্বাচনের সময় সন্দ্বীপ কার্গিল হাইস্কুল মাঠে সোহরাওয়ার্দীর নৌকা মার্কার সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় গান গেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত এম আজিজের সুনজরে পড়েন তিনি। আওয়ামিলীগ নেতা এম আজিজ তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যান। তারপর লালদীঘির ময়দানে অপর এক নির্বাচনী জনসভায় শাহ বাঙালির গান শুনে মুগ্ধ হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী খুশি হয়ে শাহ বাঙালিকে ২০০ টাকা নগদ পুরস্কার প্রদান করেন। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তাঁর জনপ্রিয় গান ছিল " হকের নৌকা শেখের নৌকানৌকা মওলানা ভাসানীরআসো আমরা ওই নৌকাতেসবাই মিলে দাঁড় টানি "
এম আজিজের কল্যাণে ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামের মুসলিম হলে এক সমাবেশে গান গেয়ে পরিচিত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহ বাঙালিকে প্রস্তাব দেন তিনি যেখানেই দফা নিয়ে জনসভা করবেন সেখানেই তাকে গান গাইতে হবে। শাহ বাঙালি সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাব লুফে নেন। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ দফার দাবিতে আয়োজিত প্রতিটি জনসভা,সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর সাথে সমগ্র বাংলাদেশ,পাকিস্তান ঘুরে বেরিয়েছেন শাহ বাঙালি। " দফাতো জনগণেরশেখ মুজিবের কিছুই নাআইলোরে ভাই দফার জমানাতোরা সব জয়ধ্বনি করগাওরে গান দেশজুড়েতোল দফার তুফান " গান মানুষের মুখে মুখে ছিল তখন। বাঙালি জাতিকে গানে গানে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে পাক সরকারের হিট লিস্টে চলে যায় শাহ বাঙালির নাম। পাকিস্থানি সামরিক জান্তা সরকারের রোষানলে পড়তে পারেন আশংকায় ওই সময় ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ শফি উল্লাহ পরিবর্তন করে ছদ্মনাম রাখেন মোহাম্মদ শাহ বাঙালি। এভাবেই মোহাম্মদ শফি উল্লাহ হয়ে যান মোহাম্মদ শাহ বাঙালি।আর নামেই তিনি সারা বাংলায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রে " মুজিব বাইয়া যাওরে",
"
বিশ্ববাসীর কাছে মোদের রইল আবেদনবন্ধ কর বাঙালির ওপর খানের নির্যাতন", " ছলে বলে ২৪ বছর বাঙলা খাইলা চুষিজাতিরে বাঁচাইতে গিয়া মুজিব হইল দোষী" সহ রকম অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়ে যান তিনি।মোহাম্মদ শাহ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কমপক্ষে ৬৬ টি জনসভার মঞ্চে গান পরিবেশন করেন। একবার বঙ্গবন্ধু নাকি তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুই যদি আমার আগে মরিস তাহলে আমি তোর মাথা কেটে পরীক্ষা করে দেখব সেখানে কী আছে। কিভাবে তুই এতো সুন্দর গান করিস।শাহ বাঙালি আরও বলতেন, "জীবনে বঙ্গবন্ধুর সাথে ১১০ হেলিকপ্টারে ৬৬ বার বিমানে চড়েছেন"


মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় বাংলাদেশের সমর্থনে কলকাতার সল্টলেকে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরির উপস্থিতিতে গণসঙ্গীত গেয়ে প্রশংসিত হন শাহ বাঙালি। সেসময় কলকাতার শান্তি নিকেতনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এক সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে ভারতের অনেক বিখ্যাত শিল্পীকে পেছনে ফেলে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। সময় কলকাতার টি স্থানে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি আকাশবাণীতে আমন্ত্রিত হয়ে একাধিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছিলেন।১৯৯০ সালে এপার ওপার বাংলার শিল্পীদের যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত লোক উৎসবে ওপার বাংলার শিল্পীরা মুলতঃ শাহ বাঙালির গান পরিবেশন করেছিলেন।বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দুদিন পর তিনি কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের পক্ষে গান গাওয়া অব্যাহত রাখেন। ৭৫ এর পটপরিবর্তনের পরও তাঁর কণ্ঠ ছিল সরব।মৃত্যুর আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন জনসভা গান গেয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ছিলেন মোহাম্মদ শাহ বাঙালি।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবদুল লতিফ ছিদ্দিকীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার সুযোগ পান। তিনি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেখা মাত্র চিনে ফেলেন। তারপর কুশল জানলেন। আমি এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি গান শুনিয়ে দিই' ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহ বাঙালিকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন। ২০১০ সালে শাহ বাঙালি একুশে পদক পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় তিনি একুশে পদক থেকে বঞ্চিত হন। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা চূড়ান্ত তালিকা প্রনয়নের সময় বাংলাদেশে থাকলে আমি নিশ্চয়ই মনোনীত হতাম।
জীবনর শেষ সময়ে এসে তিনি চলে যান তার প্রিয় জন্মভূমি সন্দ্বীপে। শাহ বাঙালি সন্দ্বীপে জীবন কাটাতেন অভাব অনটনে।টাকাপয়সার অভাবে তিনি তার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারেননি।শেষ জীবনে কবিরাজি,বেতারে গান গেয়ে আর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়ে চলত তার সংসার। সন্দ্বীপের সাবেক সংসদ সদস্য আলহা্জ্ব মুস্তাফিজুর রহমান জীবিত থাকাকালে প্রতি মাসে তাঁকে হাজার টাকা করে সম্মানি দিতেন। শাহ বাঙালির মৃত্যুর আগে মাসে মাসে সম্মানি দিতেন বর্তমান সন্দ্বীপ পৌর মেয়র জাফর উল্যা টিটু কাতার প্রবাসী নুরুল মোস্তফা খোকন। ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড়ে শাহ বাঙালির সহায় সম্পদ সব বন্যায় ভেসে যায়। ঘূর্ণিঝড়ে তাঁর প্রায় সব কয়েকটি গানের বই ভেসে যায়। তার গানের কোনে লিখিত স্ক্রিপ্টও অবশিষ্ট ছিল না। ইজ্জতপুরের বাড়ি সাগর গর্ভে বিলীনের পর হরিশপুর টাউনের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন তিনি। পরবর্তীতে সন্দ্বীপ পৌরসভার নং ওয়ার্ডে দেড় কড়া জমি কিনে সেখানেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বসবাস করেন।২০১০ সালের ১২ই অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পড়লে মোহাম্মদ শাহ বাঙালিকে সন্দ্বীপের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান সন্দ্বীপ পৌরসভা মেয়র জাফর উল্যা টিটু।সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ অক্টোবর দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ১৬ই অক্টোবর রাত সাড়ে ১২ টার সময় ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য আমৃত্যু লড়াই করে যাওয়া বাঙালির চারণ কবি মোহাম্মদ শাহ বাঙালি।মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের খোঁজখবর রাখেনি কেউ। কখনো তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়নি,না তার রাষ্ট্র কর্তৃক না তার জন্মস্থান সন্দ্বীপের সমাজ সচেতন মহল কর্তৃক।সমাজ,রাজনীতি,ইতিহাস সবখানেই অনাদরে অবহেলায় রয়ে আছেন এই মহান মানুষটি।মৃত্যুর আগে বুঝতে পেরেছিলেন মানুষ একসময় স্রষ্টা নয়,সৃষ্টিকেই পূজা করে।মহাকালের বিবর্তনে স্রষ্টা হারিয়ে যায়।হইত তাই মৃত্যুর আগে বারবার গেয়েছিলেন, " চাদরের আদর বেশি শীতকালে,চাদরের খোঁজ রাখেনা কেউ শীত গেলে"
তাই,স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরে,দেরীতে হলেও,শাহ বাঙালিকে মরনোত্তর একুশে পদক দিয়ে রাষ্ট্র দায়মুক্ত হতে পারে। মোহাম্মদ শাহ বাঙালি আজীবন বেঁচে থাকবেন তার গানে,সৃষ্টিতে,সুরে,ইতিহাসে। ইতিহাস একদিন তাঁকে তার প্রাপ্য সন্মান বুঝিয়ে দিবে

User Comments

  • আরো