১২ জুলাই ২০২০ ১৪:৫৩:৪৯
logo
logo banner
HeadLine
১১ জুলাই : সন্দ্বীপের ৩ জনসহ চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১০৫ * ১১ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ২,৬৮৬ , মৃত ৩০ * ১০ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আজ ১৯২ * ১০ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ২,৯৪৯ , মৃত ৩৭ * ৯ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আজ ১৬২ * সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আর নেই, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক * আমরাই চোর ধরছি আর আমাদেরকেই চোর বলা হচ্ছে, এটাই দুর্ভাগ্য: প্রধানমন্ত্রী * দুর্নীতিবাজ যেই হোক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী * ০৯ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩৩৬০ , মৃত ৪১ * অভিবাসীদের ওপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব লাঘবে 'জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের' আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * করোনায় সেনা কর্মকর্তা আজিমের মৃত্যু * ৮ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আজ ২৫৯ * ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না, কোনও না কোনভাবে সেটা সামনে আসবেই : প্রধানমন্ত্রী * ১৪ দলের নতুন সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু * ০৮ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩৪৮৯ , মৃত ৪৬ * ৭ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আজ ২৯৫ * ০৭ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩০২৭ , মৃত ৫৫ * ৬ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আজ ২৯৭ * রিজেন্ট হাসপাতালে র্যা বের অভিযান : মনগড়া রিপোর্ট প্রদান ও প্রতারণা করে বিল আদায়, আটক ৮ * একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন * ০৬ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩২০১ , মৃত ৪৪ * জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যু, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও স্পীকারের শোক * ৫ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত ১০ হাজার ছাড়ালো, আজ ২৯২ * বহির্বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা * আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনা * ৫ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ২৭৩৮ , মৃত ৫৫ * ৪ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২২০ * ০৪ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩২৮৮ , মৃত ২৯ * সন্দ্বীপ পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি পেতে যাচ্ছে ৭০ হাজার পৌরবাসী * ৩ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৬৩, মোট ৯৬৬৮ *
     23,2020 Tuesday at 17:10:46 Share

আওয়ামী লীগ কী করেছে আমাদের জন্য

আওয়ামী লীগ কী করেছে আমাদের জন্য

মুনতাসীর মামুন :: আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেককেই যদি জিজ্ঞেস করি কী করেছে আওয়ামী লীগ আমাদের জন্য, আমি নিশ্চিত অধিকাংশ স্বাধীনতায় নেতৃত্বদান, সংবিধান প্রণয়ন এবং শেখ হাসিনার আমলের কয়েকটি কাজের কথা বলবেন। এর বাইরে কিছুই বলতে পারবেন না। যেমন, দেখলাম জিপিএ-৫ পাওয়া অধিকাংশ বলতে পারছে না অপারেশন সার্চলাইট কী, বিজয় দিবস কবে বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বিষয়টি কী? আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে পারে ভালো, ক্ষমতায় গেলে জনগণ উপকৃতও হয়; কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারে না। প্রতিবেশী ভারতে দেখুন, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল বিশাল বিশাল খণ্ডে তাদের ইতিহাস ও দলিল দস্তাবেজ প্রকাশ করেছে। তাদের নিজস্ব আর্কাইভ আছে। আওয়ামী লীগ তা পারেনি, এর নেতৃবৃন্দেরও এ নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। ভাগ্যিস শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন বলে একটি স্থায়ী অফিস করতে পেরেছে এত বছর পর। অথচ, মূলধারার রাজনৈতিক দলের মধ্যে এখন আওয়ামী লীগ প্রাচীনতম। এ বছর ৭২ বছরে পদার্পণ করেছে।


এ পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বলেছিলাম, আপনার তো এখনও বইপত্রের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, লেখেনও, এখন স্থায়ী অফিস হয়েছে। একটা আর্কাইভস করে যান। আমরা যারা এখনও কর্মক্ষম তারা না হয় গুছিয়ে দেব। উনি বলেছিলেন, অবশ্যই করা দরকার। তারপর করোনাভাইরাস। তবে, করোনাভাইরাস যাবে। আর্কাইভস হবে না। হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতা-কর্মী ও গবেষকদের জন্য এটি হতো স্থায়ী উপহার। গত ৫০ বছরে একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। যে কোনো দলের কোনো নেতাকে যেচে কোনো পরামর্শ দিতে নেই। সেটি গ্রহণযোগ্য হয় না। তবুও যেচে অনেককে বলি, যদি হয় এই আশায়।


যাক সে-প্রসঙ্গ। ১৯৪৯ সাল থেকে ২০২০। ৭০ বছরের পুরনো দল। অথচ ক্ষমতায় থেকেছে খুব বেশি হলে ২০ বছর। ১৯৫৪-৫৮ সালে যুক্তফ্রন্টের সময় প্রায় দুই বছর, বঙ্গবন্ধুর সময় প্রায় চার বছর, শেখ হাসিনার সময় এক যুগ। যুক্তফ্রন্টের সময় পূর্ববঙ্গ/পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আতাউর রহমান খান। আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এটি নামে মাত্র ছিল যুক্তফ্রন্ট। সরকারের নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু সেই সময় ছিলেন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী।


যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেছে তখনই দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে, উপরি কাঠামোর ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, গরিবরা অপেক্ষাকৃতভাবে খেয়ে-পরে থেকেছে। এখানে আতাউর রহমান খান, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সময়টুকু যদি বিচার করেন, তাহলে দেখবেন– বাংলাদেশের অধিকাংশ কাজের পত্তন বা সম্পন্ন হয়েছে তিন আমলে। আমি এখানে বিস্তারিত বিবরণ দেব না। সংক্ষিপ্ত একটি রূপরেখা প্রদান করব মাত্র।


দুই


প্রায় দু-বছর ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ [১৯৫৬-৫৮]। এ সময়টুকুতে তারা কী কাজ করেছিল তার একটি ধারাবাহিক বিবরণ আমি কোনো গ্রন্থে পাইনি। বিষয়টি আমার খুব অবাক লেগেছে, এমন কী আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত কোনো দলিল-দস্তাবেজেও এর উল্লেখ নাই। কিছু কাজের বিবরণ পাই আতাউর রহমান খানের আত্মজীবনী ‘ওজারতির দুই বছর’-এ। তাও অতি সংক্ষিপ্ত তালিকা মাত্র। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আত্মজীবনীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজের একটি বিবরণ পাই। বিভিন্ন তথ্য, সংবাদপত্রের বিবরণ থেকে আমি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট সরকারের কিছু কাজের বিবরণ দেব।


১.      রাজবন্দিদের মুক্তি। এ বিষয়টি সবাই উল্লেখ করেছেন এবং প্রশংসা করেছেন। আতাউর রহমান খান ও অন্যান্য মন্ত্রী জেলে গিয়ে রাজবন্দিদের মুক্তি দেন ও অভ্যর্থনা জানান। ১৯৪৭ থেকে এ পর্যন্ত এ-রকম ঘটনা এদেশে ঘটেনি।


২.      ৯২(ক) বা কালাকানুন প্রত্যাহার। এটিও প্রশংসিত।


৩.      দুর্ভিক্ষ নিবারণ। সময় লেখেছিল কিন্তু নিবারিত হয়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হরিপুর গ্রামে গিয়েছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি এসেছেন খবর পেয়ে ‘৩ হাজার কঙ্কালসার ব্যক্তি’ সমবেত হয়েছিল। “বিদেশ হইতে খাদ্যদ্রব্য আনাইয়া, বহু জায়গায় লঙ্গরখানা খুলিয়া ও নির্দিষ্ট মূল্যে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিবার ব্যবস্থা করিয়া দেশকে কঠিন দুর্ভিক্ষের হাত হইতে রক্ষা করিতে সমর্থ হইয়াছিলাম। এই উপলক্ষে কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী মরহুম শহীদ সোহরাওয়ার্দী খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহের ব্যাপারে যে চেষ্টা ও উদ্যম দেখাইয়াছিলেন তাহা স্মরণযোগ্য। তাঁহার চেষ্টার জন্যই এই কঠিন দুর্ভিক্ষকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হইয়াছিল।” [বিস্তারিত ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, আত্মকথা]


ধীরেন্দ্রনাথ লিখেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুরে লঙ্গরখানা খুলে প্রায় পাঁচ হাজার লোককে ৩/৪ মাস খাওয়ানো হয়েছিল। এ-সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যায় বঙ্গবন্ধুর এক বিবৃতি। মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক মানজারে আলম এক বিবৃতি জানান, দুর্ভিক্ষপীড়িতদের মানুষদের খাদ্য দানের জন্য লঙ্গরখানাসমূহ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। যারা যুক্ত নির্বাচন-বিরোধী তাদের লঙ্গরখানা থেকে খাদ্য দেওয়া হয় না। শেখ মুজিব বিবৃতিতে তা অস্বীকার করে জানান।


“১. বর্তমান পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক সহস্র লঙ্গরখানা পরিচালিত হইতেছে। সকল মত ও পথের অনুসারীদের সমন্বয়ে বর্তমান সরকার কর্তৃক পুনর্গঠিত খাদ্য ও সাহায্যদান কমিটি প্রত্যেক ইউনিয়নে সরকারী কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানে এই সকল লঙ্গরখানা পরিচালন করিতেছে।


২. সরকার প্রত্যহ প্রত্যেক লঙ্গরখানায় বিনামূল্যে দুই মণ হইতে তদূর্ধ্বে চাউল সরবরাহ করিতেছেন।


৩. স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাপ্রদত্ত চাঁদা উঠাইয়া লঙ্গরখানা পরিচালনের ব্যাপারে আকস্মিক ব্যয় নির্বাহ করা হয়।


৪. যে সকল স্থানে স্বেচ্ছাপ্রদত্ত চাঁদা পাওয়া যায় না, সেই সকল স্থানে সরকার এই সকল আকস্মিক ব্যয় নির্বাহ করিয়া থাকেন। এই উদ্দেশ্যে সরকার এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকা প্রদান করিয়াছেন।” [বিস্তারিত, ইত্তেফাক, ০৯.১১.১৯৫৬]


তিনি আরও জানান, মুসলিম লীগ যুক্তি দিয়েছিল, লঙ্গরখানা খুললে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হয়। ধীরেন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, দুর্ভিক্ষ নিবারণে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।


৪.      প্রত্যেক জেলা মহকুমার হাসপাতাল মেরামতের জন্য বছরে ৪ লাখ বরাদ্দ ছিল। চার বছর যাবত তা খরচ হয়নি। সেই টাকা দিয়ে ১৯৫৭ সালে প্রত্যেক জেলা মহকুমার হাসপাতাল ব্যাপকভাবে মেরামত কাজ হয় ও ‘সর্বত্র হাসপাতালের চেহারা পরিবর্তিত হইয়া যায়।’


৫.      ঢাকা মেডিকেল কলেজের নতুন বাড়ি, নার্সেস কোয়ার্টার ও ছাত্রাবাস নির্মাণ শুরু হয়।


৬.      চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ চালু।


৭.      রাজশাহী মেডিকেল কলেজ চালু।


৮.      রাজশাহীর সাঁওতাল অধ্যুষিত গ্রাম, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর, কুমিল্লার চিয়াড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুরে হাসপাতাল স্থাপন।


৯.      টীকা বীজ তৈরি শুরু হয় এবং সেখানে একটি শিক্ষাকেন্দ্র চালু।


১০.     জেলা বোর্ডের হাসপাতালসমূহ সরকারি কর্তৃত্বাধীনে আনার প্রচেষ্টা। অনেকগুলি হাসপাতাল আনা সম্ভব হয়েছিল এবং তাতে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছিল।


১১.     এক বছরের মধ্যে ৩ হাজার টিউবওয়েল স্থাপন, যার ফলে গ্রামবাসী সুপেয় জল পেয়েছিল।


১২.     পরিকল্পনা পরিষদ বা প্ল্যানিং বোর্ড


পরিকল্পনা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্লানিং বোর্ড গঠন করা হয়। অর্থনীতিবিদদেরও এর সদস্য করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বোর্ডের চেয়ারম্যান। এর জন্য তিন বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা (১৯৫৭-১৯৬০) নেওয়া হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। আগের দুই বছর বরাদ্দ হয়েছিল ১৯ কোটি টাকা। বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে কৃষি উন্নয়নে ১১ কোটি, পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৯ কোটি, শিল্পে ২ কোটি, সড়ক নির্মাণ ৪ কোটি, শিক্ষা উন্নয়ন সাড়ে ৪ কোটি, স্বাস্থ্যোন্নয়নে ২.৫০ কোটি, গৃহ নির্মাণ ও পুনর্বাসনে ৫.৫০ কোটি টাকা।


১৩.     কৃষি উন্নয়ন


এর জন্য দু-ধরনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এক. পতিত জমি উদ্ধার। দুই. বৈজ্ঞানিক প্রণালিতে চাষ। জমির খসড়া হিসেবে জানা গেল প্রায় ২৬ লাখ একর জমি পতিত, যার অধিকাংশ হাওর ও বিল, পানি নিষ্কাষণটা যেখানে জরুরি। এ কারণে–


(১)     ১১০০ পাওয়ার পাম্পের বন্দোবস্ত করা হলো, যা আগে কখনও করা হয়নি


(২)     উত্তরাঞ্চলে গভীর নলকূপ বসানো হলো, যা প্রথম


(৩)     হাওর এলাকায় পাওয়ার পাম্প কাজের জন্য ৩০টি লোহার নৌকা নির্মাণ। এটিও আগে কখনও হয়নি


(৪)     ছোট-বড় প্রায় ৩ হাজার খাল কাটা। এর ফলে ১৫ লাখ একর জমিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪৩ লাখ মণ চাল


(৫)     এক বছরে ধানের জন্য ৪০ হাজার, ডাল ও সরিষার জন্য ১১ হাজার মণ বীজ সরবরাহ। বিদেশ থেকে ২ হাজার পাউন্ড ও ১২ লাখ মণ আলুর বীজ আমদানি করে সরবরাহ


(৬)     আগে আট বছরে সাড়ে ১০ লাখ মণ সার বিলি করা হয়েছিল। এ সরকার প্রথম বছর সোয়া ১৫ লাখ, পরের বছর প্রায় দ্বিগুণ সার সংগ্রহ করে। এবং মূল দামের এক-তৃতীয়াংশ দামে তা কৃষকদের সরবরাহ করা হয়। এর ফলে ফসল উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়


(৭)     পোকার কারণে উৎপাদিত ফসলের ১০ শতাংশ নষ্ট হতো। এটি হ্রাসের জন্য প্রথম বছর ৩০ হাজার জমিতে ঔষধ ছিটানো হয়


(৮)     ফল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১৯৫৭ সালে বিলি করা হয় ২৫ হাজার কলা ও ১ লাখ আনারসের চারা। সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০ একর করে দুটি ফলের বাগান সৃষ্টি। ফল উন্নয়নের জন্য ফ্রুট ডেভলেপমেন্ট বোর্ড গঠন


(৯)     রংপুর ও শেরপুরে কৃষি শিক্ষার জন্য দুটি স্কুল; আর ৫টি বিদ্যালয়ে ধান/চাল গবেষণার জন্য গবেষণাগার স্থাপন।


১৪.     পশু চিকিৎসা


ময়মনসিংহে পশু চিকিৎসার জন্য ভেটেরনারি কলেজ স্থাপন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা।


১৫.     প্রাথমিক শিক্ষা


প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ছিল সামান্য। অনেকের বেতন ছিল বাকি। স্কুল বোর্ড সব ভেঙে প্রাথমিক স্কুল সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষকদের বাকি বেতন শোধ ও বেতন বৃদ্ধি।


১৬.     উচ্চ শিক্ষা


শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন। পাঁচশালা পরিকল্পনায় ১ হাজার জুনিয়র হাই স্কুল, ৫০০ হাই স্কুল, ৬ হাজার প্রাইমারি স্কুল, ৪০টি কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ উন্নয়নের ব্যবস্থা। ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয় এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কারে।


১৭.     ইডেন গার্লস কলেজ


ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের জন্য নতুন ইমারত, ছাত্রীনিবাস ও বিজ্ঞান বিভাগ খোলার জন্য ৪৯ লাখ টাকা মঞ্জুর। ঢাকা কলেজের জন্যও দোতলা ছাত্রনিবাস নির্মাণ সম্পন্ন।


১৮.     জুট মার্কেটিং কর্পোরেশন


আওয়ামী লীগ গঠনের পর থেকে পাট নিয়ে সব সময় আলোচনা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুব কম বক্তৃতা আছে যেখানে পাট নিয়ে আলোচনা নেই। পাটের বাজারে স্থিতিশীলতা ছিল না। স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে জুট মার্কেটিং কর্পোরেশন স্থাপিত হয়। এর প্রধান কাজ ছিল নির্দিষ্ট মূল্যে পাট কিনে পাটের চোরাচালান বন্ধ করা। পাট চাষিরা যেন ন্যায্যমূল্য পান এটি ছিল আওয়ামী লীগের দাবি। এই সংস্থা গঠন ছিল এর প্রথম পদক্ষেপ।


১৯.     অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা


পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নৌ চলাচলের সুবন্দোবস্ত ছিল না। শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সুব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা আইডব্লিউটিএ গড়ে তোলা হয়।


২০.     বিদ্যুৎ ও বাঁধের পরিকল্পনা


পাকিস্তান হওয়ার পর ৩টি বড় পরিকল্পনা গৃহীত হয়– কর্ণফুলি বিদ্যুৎ পরিকল্পনা, গঙ্গা-কপোতাক্ষ বাঁধ ও তিস্তা বাঁধ। এসব পরিকল্পনার কাজ চলছিল খুব শ্লথ গতিতে কারণ, বিদেশি সাহায্য নির্ভরতা। আতাউর রহমান সরকার এতে গতি আনেন।


কর্ণফুলি বিদ্যুৎ পরিকল্পনায় ছিল, নিম্নভূমির ৫০০ বর্গমাইল এলাকা বন্যাকবল থেকে রক্ষা করা ও পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৩০০ মাইল নদীপথ সুগম করা।


এই পরিকল্পনা সমাপ্ত হলে কুমিল্লা, যশোর ও খুলনায় শুষ্ককালে পানি সরবরাহ বাড়বে, ফলে শস্য উৎপাদন ২ থেকে ৩ গুণ বাড়বে। ফসলের পরিমাণ হবে প্রায় ১৫ লাখ টন।


তিস্তা বাঁধের পরিকল্পনায় ছিল ১০ কোটি টাকা। পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল তিস্তার ওপর বাঁধ ও ১৩০০ মাইল নদীর শাখা-প্রশাখাসহ ৩০ মাইল দীর্ঘ খাল।


এর ফলে দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়ায় অতিরিক্ত ৩ লাখ মণ শস্য ও ১০ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হয়েছিল।


এগুলো ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্তর্গত। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অন্তর্গত ছিল–


(১)     গোমতী নদী খনন


(২)     রংপুরে যুমনা নদীর দক্ষিণ পারে বাঁধ


(৩)     হবিগঞ্জে বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ


(৪)     ফরিদপুরে বড় নদীগুলো নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন


(৫)     গাইবান্ধা-কুড়িগ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ


(৬)     নারায়ণগঞ্জ থেকে চালনা পর্যন্ত নৌ চলাচলের পথ উন্নয়ন।


এগুলোর কাজ প্রায় ক্ষেত্রে শেষ হয়েছিল।


২১.     বনসম্পদের উন্নয়ন


বনজ সম্পদ আহরণ করা যেতে পারে এবং তা দিয়ে শিল্প গড়ে উঠতে পারে, রাজস্ব বৃদ্ধি পেতে পারে ১৯৫৬ সালের আগে কোনো সরকার তা চিন্তা করেনি। যেমন, কাসালং-এ ৭০০ বর্গমাইল থেকে কখনও কাঠ কাটা হয়নি। এ জন্য ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। বনভূমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুটি সার্কেল করা হয় এবং তার ওপর চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্ট পদ তৈরি হয়। বনবিভাগের উন্নতি ও বনসম্পদ দিয়ে শিল্পোন্নয়ন (২২ রকমের)-এর জন্য গঠিত হয় ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন।


২২.     রমনা গ্রিন


এসব কর্মসূচির পরম্পরায় ঠিক হয় ঢাকায় একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা হবে। ২০ লাখ টাকা নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং সৃষ্টি হয় রমনা গ্রিন-এর, যা আমাদের কাছে আজ পরিচিত রমনা পার্ক নামে।


২৩.     শিল্পোন্নয়ন ও বাণিজ্য


শিল্পোন্নয়ন ও বাণিজ্যের সুবিধার জন্য কেন্দ্রে বাণিজ্যমন্ত্রী আবুল মনসুর আহমদ ও প্রদেশে শেখ মুজিবুর রহমান নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে আবুল মনসুর ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন আহ্বান করেন। সেখানে কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয় ও কার্যকর হয়–


(১)     পূর্ব পাকি

User Comments

  • রাজনীতি