২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২:৪২:০০
logo
logo banner
HeadLine
২৫ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে নতুন শনাক্ত আরও ৪৩ * দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আছি বলেই সুফল পাচ্ছে জনগণ -প্রধানমন্ত্রী * এখন রাজনৈতিক কূটনীতি নয়, অর্থনৈতিক কূটনীতি চলছে -প্রধানমন্ত্রী * ২৫ সেপ্টেম্বার : আজ শনাক্ত ১৩৮৩, মৃত্যু ২১, সুস্থ ১৯৩২ * সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত * ২৪ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৫৩ * ২৪ সেপ্টেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ১৬৬৬, মৃত্যু ২৮ জন, সুস্থ ২,১৩৯ * ২৩ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৬৩ * জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * ২৩ সেপ্টেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ১৬৬৬, মৃত্যু ৩৭ জন, সুস্থ ২১৬৩ * ২২ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত আরও ৭৭ জন * ২২ সেপ্টেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ১৫৫৭, মৃত ২৮, সুস্থ ২০৭৩ * 'বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ' তৈরি করতে জাতিসংঘের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * ২১ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৫৬ * জাতিসংঘে এবারের ভার্চুয়াল অধিবেশনেও বাংলায় বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী * ২১ সেপ্টেম্বার : আজ শনাক্ত আরও ১৭০৫, মৃত ৪০, সুস্থ ২১৫২ * সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত * ২০ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৪৬ * ২০ সেপ্টেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ১৫৪৪ , সুস্থ ২১৭৯, মৃত ২৬ * শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, তাই প্রস্তুতি নিন : প্রধানমন্ত্রী * ১৯ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৫ * ১৯ সেপ্টেম্বার : আজ শনাক্ত ১৫৬৭, মৃত ৩২, সুস্থ * লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আল্লামা শফীর জানাজা সম্পন্ন, চিরশায়িত হলেন প্রিয় মসজিদ প্রাঙ্গণে * আল্লামা শফীকে শেষ বিদায় জানাতে হাটহাজারী আভিমুখে লাখো মানুষের ঢল * ১৮ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৬০ * শাহ আহমদ শফীর জানাজা বাদ জোহর, ৪ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন * হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী আর নেই, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক * ১৮ সেপ্টেম্বার : আজ শনাক্ত ১৫৪১, মৃত ২২ জন, সুস্থ ১,৯২৩ * ১৭ সেপ্টেম্বার : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৬৪ * দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর *
     06,2020 Thursday at 19:19:19 Share

সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামি কারাগারে

সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামি কারাগারে

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার মামলায় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ সাত আসামির জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে সাত আসামির আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন এই আদেশ দেন।


পুলিশ সদস্যদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করে তাদের কক্সবাজার কারাগারে পাঠাতে বলেন বিচারক।


এই সাতজন হলেন- পরিদর্শক লিয়াকত আলি, পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়া।


মামলার বাকি দুই আসামি এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা এখনও পলাতক বলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম জানান।


প্রদীপকে নিয়ে পুলিশ চট্টগ্রামে থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে কক্সবাজারের বিচারিক হাকিম আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। তার আগেই বিকাল পৌনে ৪ টার দিকে পরিদর্শক লিয়াকতসহ বাকি সাতজনকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।


আসামি পুলিশ সদস্যদের আদালতে হাজির করার আগে পুরো এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা। সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ওই নিরাপত্তার মধ্যেও আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।


সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের হস্তান্তর করা হবে র‌্যাবের হাতে। র‌্যাবকেই এ মামলার তদন্তভার দিয়েছে আদালত।


টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস যে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, তাতে লিয়াকতকে ১ নম্বর এবং প্রদীপকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।


শারমিন বুধবার সকালে টেকনাফের বিচারিক হাকিম আদালতে মোট ৯ জনকে আসামি করে ওই মামলা করার পর বিকালে টেকনাফ থানা থেকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রত্যাহার করা হয়। পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ ২০ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয় দুদিন আগেই।


বৃহস্পতিবার দুপুরে খবর আসে, পরিদর্শক প্রদীপকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে চট্টগ্রামের পুলিশ। এরপর তাকে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয় কয়েকটি গাড়ি।  


চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান দুপুরে বলেন, “চট্টগ্রামের দামপাড়া বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে এসেছিলেন প্রদীপ কুমার দাশ। তাকে এখন পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজারে নেওয়া হচ্ছে। তিনি যেহেতু মামলার আসমি, তিনি সেখানে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।”


জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহ বুধবার হত্যা মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার তদন্তভার দেন র‌্যাবকে।


বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় টেকনাফ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় বলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বিএম মাসুদ হোসেন জানান।


তবে র‌্যাব বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মামলার নথিপত্র বুঝে পায়নি জানিয়ে কক্সবাজারের র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, “দায়িত্ব বুঝে পেলে নিয়ম অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করব।”


দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া সিনহা মো. রাশেদ খান ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। আরও তিন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি উঠেছিলেন নীলিমা রিসোর্টে।


গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।


ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়ে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। এই ঘটনায় পুলিশ মামলাও করে।


তবে পুলিশের এই ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিনিধি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


এদিকে সিনহাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বুধবারই কক্সবাজারের আদালতে মামলা করেন তার বোন শারমিন।


এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, ওসি প্রদীপের ফোনে পাওয়া নির্দেশে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই লিয়াকত আলি গুলি করেছিলেন সিনহাকে।


মামলার বাকি সাত আসামি হলেন- টেকনাফ থানার এসআই দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এসআই টুটুল এবং কনস্টেবল মো. মোস্তফা।


আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ‘ইচ্ছাকৃত নরহত্যা’, ২০১ ধারায় আলামত নষ্ট ও মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি এবং ৩৪ ধারায় পরস্পর ‘সাধারণ অভিপ্রায়ে’ অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।  এর মধ্যে ৩০২ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।


ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে (২১) মামলার প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে। ঘটনার দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলায় তাকেও আসামি করা হয়।


এছাড়া আটজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইয়ুব আলী নামে একজন সার্জেন্টকে সাক্ষী করা হয়েছে এ মামলায়।


সিনহা নিহতের ঘটনায় জড়িত সব পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সমিতি রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)।


একই দিন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ কক্সবাজারে গিয়ে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।


এরপর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, এই ঘটনায় যে এই ঘটনায় দায়ী হিসেবে যে বা যারা চিহ্নিত হবে, তারাই শাস্তি পাবে। এর দায় বাহিনীর উপর পড়বে না।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মঙ্গলবার সিনহার মা নাসিমা আখতারকে ফোন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন। খবরঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর।  

User Comments

  • আইন ও আদালত