২৭ নভেম্বর ২০২০ ৩:৬:২০
logo
logo banner
HeadLine
মেধা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও মননকে দেশের কাজে লাগাতে সরকারি কর্মচারিদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * ২৬ নভেম্বার : দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে, সুস্থ ৩,৭১,৪৫৩ জন * সব শ্রেণিতে ভর্তি এবার লটারিতে * বিদায় দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা * ২৫ নভেম্বার : দেশে শনাক্ত আরও ২১৫৬, মারা গেছেন ৩৯ জন, সুস্থ ২,৩০২ * অন্ধ্র ও তামিলনাড়ুর দিকে আগাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'নিভার' * ১০ হাজার ৭শ' কোটি টাকার ৭টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন * ২৪ নভেম্বার : দেশে করোনা সংক্রমণ সাড়ে ৪ লাখ ছাড়িয়েছে, সুস্থ ৩,৬৬,৮৭৭ * বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারে আরো কঠোর হতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার * ২৩ নভেম্বার : দেশে শনাক্ত আরও ২৪১৯, মারা গেছেন ২৮, সুস্থ ২১৮৩ জন * ২৫ পৌরসভার নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর * মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরকের উপকরণ নয়: হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান * ২২ নভেম্বার : দেশে আজ শনাক্ত ২০৬০, মারা গেছেন ৩৮, সুস্থ ২০৭৬ জন * অক্সফোর্ডের গবেষণা : ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার সংক্রমণের সম্ভাবনা নেই * বসলো পদ্মাসেতুর ৩৮তম স্প্যান , দৃশ্যমান ৫৭০০ মিটার *
     21,2020 Saturday at 18:14:36 Share

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে - সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে - সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী

জনকণ্ঠ :: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা করোনা মহামারীর বর্তমান পরিস্থিতি ও শীত মৌসুমে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উল্লেখ করে বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারীকে সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নারী ও শিশুর প্রতি যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের একাধিক প্রশ্নের লিখিত জবাবে শেখ হাসিনা তার এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

সরকারী দলের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, কোভিড-১৯ বিশ্বে এক ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এক অজানা ভাইরাস দ্বারা বৈশ্বিক মহামারী ঘটবে বিজ্ঞানীরা এ ধরনের আশঙ্কা করলেও সেটা যে এত দ্রুত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং তা রোগতত্ত্বের প্রচলিত ব্যাকরণগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে- সেটা কারও ধারণাতেও ছিল না।

তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারীকে সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর প্রকোপ কিছুটা হলেও কমে এলেও যে কোন মুহূর্তে তা আসন্ন শীতকালে আবার বেড়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকাতে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে।

সংসদ নেতা এ প্রসঙ্গে আরও জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীন থেকে শুরু হওয়া করোনা মহামারীর বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন শীত মৌসুমে যাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে না পারে সেজন্য ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ প্রিপ্যারিডনেস এ্যান্ড রেসপন্স প্লান (বিপিআরপি)’ তৈরি করা হয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। করোনার বর্তমান ও আসন্ন শীতকালে পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশব্যাপী গৃহীত কার্যক্রমের সমন্বয়ের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ৬ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক গবেষণা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে গবেষণাকে উৎসাহিত করাসহ নতুন নতুন গবেষণা প্রকল্প আহ্বান করা হচ্ছে। গবেষণায় আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে। গুজব ও ভুল তথ্য প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে প্রমাণভিত্তিক তথ্যের সংকলন প্রচার নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ প্রতিরোধে ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

নারী-শিশু ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নির্মূলে সরকার কঠোর : সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম মনিরা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রচলিত সব আইনের আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধ প্রতিরোধ করে এ ধরনের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০২০ সংশোধন করে ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা হিসেবে জাতীয় জরুরী সেনা ৯৯৯-এ যে কোন অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়।

সংসদ নেতা জানান, যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমাজ থেকে নির্মূল করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ ও জড়িতদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে জনসাধারণ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, যাতে সহজে আইন সহায়তা পেতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার। বৈশ্বিক মহামারী করোনার সঙ্কট মোকাবেলায় ও ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে সরকার শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাণিজ্য সম্প্রসরণ করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার করোনাভাইরাসের সঙ্কটের কারণে দেশের বিভিন্ন সেক্টরের বিভিন্ন শ্রেণীর ও পেশার মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার্থে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো হতে পরিচালিত ‘কোভিড-১৯ বাংলাদেশ : জীবিকা’-এর উপর অভিঘাত ধারণা জরিপ ২০২০ অনুযায়ী কোভিড-১৯ কালীন আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারী সহায়তা/ত্রাণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বাণিজ্য সম্প্রসারণে নানামুখী পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ’র প্রশ্নের লিখিত জবাবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় তার উত্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ছয়টি বিশেষায়িত বিষয়ে ‘উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন’ নামক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ সময়ে আমি আমার বক্তব্যে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বৈশ্বিক সংহতি এবং এ সঙ্কট থেকে উত্তরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের উপর গুরুত্বারোপ করি। আমি এ সময়ে এজেন্ডা ২০৩০, প্যারিস চুক্তি এবং আদ্দিস আবাবা এ্যাকশন এজেন্ডাকে ভিত্তি করে এ সঙ্কট থেকে উত্তরণে জাতিসংঘকে মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করি।

তিনি বলেন, আমার উত্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিশেষ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। অন্য বিশ্বনেতৃবৃন্দও বিভিন্ন সময়ে তাদের বক্তব্যে এ বিষয়গুলোর উপরেই গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, করোনাকালীন আমাদের সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে আমরা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতাসমূহের কাছ থেকে জরুরী আপদকালীন অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩৫ মিলিয়ন ইয়েন বা ৩৩ কোটি মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে জাপান। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এডিবি প্রায় ৬শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ ও অনুদান দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য অর্থ সহায়তা পাওয়া গেছে। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মানির কাছ থেকে তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্পের জন্য ১১৬ মিলিয়ন ইউরোর প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। এছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আইআইবি ব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে।

জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর সরকার : জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বন্ধপরিকর। দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানসহ জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মুজিব শতবর্ষে কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না : সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী জেলা বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চকপোড়াগাছা গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে সর্বপ্রথম ভূমিহীন-গৃহহীন অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রদান করেন। জাতির পিতার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভূমিহীন-গৃহহীন-অসহায় পরিবার পুনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও এদেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাসস্থান নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনে এ ধরনের ঘোষণা ও কর্মসূচী বিশ্বের আর কোন সরকার প্রধান এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেননি। মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সমাজের সম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুরোধ করব তারা যদি সবাই অন্তত একটি বাড়ি অসহায় পরিবারের জন্য নির্মাণ করে দেয় তবে মুজিব শতবর্ষে যেমন দেশে একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না, তেমনি সবাই মিলে আমরা নির্মাণ করব এক মানবিক ‘সোনার বাংলা’।

এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে : সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসাধারণের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস হচ্ছে কৃষি। বঙ্গবন্ধু জানতেন, কৃষির উন্নয়নের মাঝেই এ দেশের সার্বিক উন্নয়নের বীজ নিহিত রয়েছে। তাই দেশ স্বাধীনের পরেই তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন এবং কৃষিতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতার প্রবর্তিত নীতি অনুসরণ করে বর্তমান সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ জোরদার করা, সার ব্যবস্থাপনার সংস্কার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রণোদনা প্রদান, সারসহ কৃষি উপকরণ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, উন্নয়ন সহায়তা প্রদান এবং সব ফসলে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

 

User Comments

  • জাতীয়