১০ আগস্ট ২০২২ ২৩:১৩:৫৩
logo
logo banner
HeadLine
১২ সিটিতে শুরু হচ্ছে ৫-১১ বছরের শিশুদের করোনার টিকাদান * জ্বালানি নিরাপত্তা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান * সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি * চাওয়া-পাওয়া বিলাসিতাই জীবন নয়: প্রধানমন্ত্রী * বঙ্গমাতার জীবন থেকে সারা বিশ্বের নারীরা শিক্ষা নিতে পারে : প্রধানমন্ত্রী * শেখ কামালের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে যুব সমাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মর্যাদাকে সমুন্নত করবে : প্রধানমন্ত্রী * চীনের সামরিক মহড়ায় অবরুদ্ধ তাইওয়ান * শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র জোরদার হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী * সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত * শত প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে এই উন্নয়ন, একে অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী * হাইকোর্টে ১১ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ * সরকার তরুণদের দক্ষ কর্মশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী * হিজরী নববর্ষ কাল * মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত * অগ্রযাত্রা থামবে না - প্রধানমন্ত্রী *
     28,2022 Thursday at 08:48:25 Share

অগ্রযাত্রা থামবে না - প্রধানমন্ত্রী

অগ্রযাত্রা থামবে না - প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে বলেছেন, বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে অনেক চক্রান্ত চলছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি- যত চক্রান্তই করুক বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি অপ্রতিরোধ্য গতিতে, ইনশা আল্লাহ এগিয়ে যাব। ঝড়-ঝাপটা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশের কারণে অনেক কিছুই মোকাবেলা করতে হবে। আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে যেমন চলি, তেমনি বৈশ্বিক যে দুর্যোগ সেটাও মোকাবেলা করে আমরা এগিয়ে যেতে পারব, সেই বিশ্বাস আমার আছে।

বুধবার বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা- দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কে কি বলল সেদিকে না যেয়ে আমরা মানুষের জন্য  যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়নের কথাগুলো একেবারে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বার বার বলতে হবে। এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং এই কাজটা করতে হবে। আমরা কি করেছি তা মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলে সেটাই হবে আসল জবাব।

আমরা বিস্মৃত জাতি বিধায় এগুলো বার বার মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়ঋতুর দেশ আমাদের। দুই মাস পর পর ঋতু বদলায়, মানুষের মনও বদলায় এবং ভুলেও যায়। কাজেই দুই মাস পর ভুলে যেন না যায়, সে জন্য আমরা কি কাজ করেছি মানুষের কাছে বার বার সেটা বলতে হবে,  বোঝাতে হবে। কারণ একটা শ্রেণী আছে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। এই জ্ঞানপাপীদের কথা শুনে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের গত এক বছরের কর্মকা- এবং সদ্য প্রয়াত দলটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের ওপর দু’টি পৃথক ভিডিও চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বেচ্ছাসেবার ১ বছর’ শীর্ষক একটি প্রকাশনার মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

মানুষকে বিভ্রান্ত করার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর সমালোচনা ॥ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের কথা না বলে যারা ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন তাদেরও কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় একটি মিডিয়ায় অনলাইন ভার্সনে দেশের ডিজেল, অকটেন,  পেট্রোলের সঙ্কট প্রসঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ডিজেল আমাদের কিনতে হয় এটা ঠিক। কিন্তু অকটেন আর পেট্রোল কিন্তু আমাদের কিনতে হয় না।

আমরা যে গ্যাস উত্তোলন করি সেখান থেকে বাই প্রডাক্ট হিসেবে আমরা কিন্তু রিফাইন করে পেট্রোল ও অকটেন পাই। বরং আমাদের যতটুকু চাহিদা তার চেয়ে অনেক বেশি পেট্রোল এবং অকটেন কিন্তু আমাদের আছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা অনেক বেশি জ্ঞানী তাদের জ্ঞানের ভা-ার এত বেশি যে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস তারা ভুলে যান। কিন্তু উল্টা পাল্টা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চান। রিজার্ভ নিয়ে যারা সমালোচনা করেন তাদের পাল্টা সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন রিজার্ভ ৩ বিলিয়নের কিছু ওপরে, ৩ দশমিক ৮ এই রকমই ছিল। আর আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত আমাদের রিজার্ভ বাড়াতে সক্ষম হয়েছিলাম। করোনাকালীন সময়ে আমদানি বন্ধ ছিল, এরপর আমদানি আমাদের করতে হয়েছে। আমদানি করতে গিয়ে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রিজার্ভ খরচ করতে হয়েছে।

বিনা পয়সায় করোনাভাইরাস মহামারীর টিকা প্রদান, বিনা পয়সায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার পাশাপাশি বিমান পাঠিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করে আনতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজকে আমাদের সব আমদানিগুলো কিন্তু সমস্ত ক্যাপিটাল মেশিনারিজ। এটা মাথায় রাখতে হবে। এই মেশিনারিজ আনার পরে যে সমস্ত শিল্প গড়ে উঠবে সেগুলো যখন প্রডাকশনে যাবে সেখানে কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ লাভবান হবে। এই খরচটাতো আমাদের করতেই হবে।

বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের খাবার কিনতে পারব ॥ রিজার্ভের বিষয়ে তার ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপদকালীন সময়ে ৩ মাসের খাদ্যশস্য কেনার মতো বা আমদানি করার ব্যয় মেটনোর সক্ষমতা যেন থাকে। আমাদের এখন যে রিজার্ভ আছে তাতে ৩ মাস কেন, ৬ মাস বা ৯ মাসের খাবারও আমরা কিনে আনতে পারব। কিন্তু আমরা যেন নিজেরা উৎপাদন করতে পারি, নিজেরা সাশ্রয়ী থাকি। ‘দেশের বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই অনেক রকম কথা লেখেন’-উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে একজন অর্থনীতিবিদের লেখার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। যিনি লিখেছিলেন- ‘পদ্মা সেতুতে বাংলাদেশের কোন আয় তো হবেই না বরং অযথা এই সেতু নির্মাণ হয়েছে।’ আবার পদ্মা সেতুতে যে রেললাইন সেটা নিয়েও কারও কারও আপত্তির কথাও তার বক্তব্যে তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, এই হচ্ছে আমাদের কোন কোন অর্থনীতিবিদের চিন্তাধারা, আর্টিকেল লিখে ফেলে। তারা বাংলাদেশটাকে কতটুকু চেনেন সেটা নিয়েও আমার সন্দেহ। বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ না করে তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা সব কিছুতেই খারাপ দিক দেখে। জীবনে ভাল কোন কিছু চোখে পড়ে না তাদের।’

অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এলে এসব বুদ্ধিজীবীদের কদর বাড়ে ॥ প্রধানমন্ত্রী এসব কথিত বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে আরও বলেন, একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি যদি বাংলাদেশে থাকে তাহলে তাদের আবার কদর বাড়ে। তারা মনে করে তারাই জ্ঞানী, তারাই সব পারে! কিন্তু দেশটাকে আমি চিনি। কিসে দেশের ভাল হবে সেটা আমি জানি। কেননা দেশের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী তিনি, তার দল এবং দেশের মানুষের কষ্টটা তারাই অনুধাবন করতে পারেন। যে কারণে আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার সরকার গঠন করে একদিকে করোনাভাইরাস মহামারী সফলভাবে মোকাবেলা করেছে এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদাও অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন এ সকল তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা যদি এতটাই পারবেন তাহলে আগে বাংলাদেশের কোন উন্নয়ন হয়নি কেন? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই বাংলাদেশ কেন এতটা এগিয়েছে?

দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজ এটাই বলব তোমাদের কাজ হবে আমরা যে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, যে উন্নতি দেশের হয়েছে, শিক্ষার দ্বার অবারিত হয়েছে, বহুমুুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। সেই সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি- এসব দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি, গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় মানুষের ঘরে বসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, ফ্রিল্যান্সার সৃষ্টি হয়েছে। বেকারদের ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে, রাস্তাÑঘাট, পুল, ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছি- এই উন্নয়নের কথাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। প্রত্যেকটি অঞ্চলে গিয়ে মানুষের কাছে বার বার বলতে হবে। কে কি বলল সেদিকে কর্ণপাত করার কোন দরকার নেই। আমরা কি করেছি তা মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলে সেটাই হবে আসল জবাব।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়া, স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষাকে জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার পাশাপাশি গৃহহীনকে ঘর করে দেয়ার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। দেশে কোন গৃহহীন পরিবার থাকলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের নিজ এলাকায় খুঁজে দেখার আহ্বান জানান তিনি। কারণ, সরকার সবাইকে ঘর করে দেবে। এ থেকে দলিত শ্রেণী পেশার মানুষ এমনকি হিজড়া ও বেদে শ্রেণীও বাদ যাচ্ছে না। তার সরকার তাদের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার থেকে সকলের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে পরিকল্পনা সেটা থেকেই এটা করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে জিয়া ॥ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিএনপি নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে কিন্তু দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকে। তিনি বলেন, ২১ বছর পর ৯৬ সালে সরকারে এসেই দেশকে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ধারায় নিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া ‘গ্যাস বিক্রির মুচলেকা’ দিয়ে ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ দেশের সব উন্নয়ন কর্মকা-গুলো বন্ধ করে সেই উন্নয়নের ধারাকে আবারও পিছিয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘গ্যাস বাংলাদেশের, উত্তোলন করবে আমেরিকার কোম্পানি এবং বিক্রি করবে ভারতের কাছে কিনবে ভারত। এই মুচলেকা দিয়েই ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্তেই আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা ছেড়ে আসার সময় ২৬ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য রেখে এলেও বিএনপি শাসনামলে সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ, দুর্নীতি, চোরাকারবারি, মানি লন্ডারিং, বিদ্যুত উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৩শ’  মেগাওয়াট থেকে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালনসহ দুর্নীতিতে বাংলাদেশকে টানা পাঁচ বার বিশ^ চ্যাম্পিয়ন হতে দেখে বিশ^। ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে। নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে লুণ্ঠন আর ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার লিস্ট করে বিএনপি। আর এ সবের জন্যই দেশে ইমার্জেন্সি আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিএনপি নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে কিন্তু দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকে। তিনি ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ এবং দেড় মাসের মধ্যেই সরকার উৎখাত হবার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোট যে চুরি করে জনগণ তাকে মেনে নেয় না, এটা প্রামাণিত সত্য। ৩০ মার্চ গণআন্দোলনের মুখে খালেদা জিয়া বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে। সে কথাটা বোধ হয় তারা (বিএনপি) ভুলে গেছে।

নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য ॥ এ সময় ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের এক পদে একাধিক মনোনয়ন প্রদানের মাধ্যমে মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে নির্বাচন ব্যবস্থায় যতটুকু সংস্কার সেটা আমাদেরই প্রস্তাব অনুযায়ী হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটারকে বাদ দেয়া- এর সবই করা হয়েছে। বিএনপি করেছে ভুয়া ভোটার’ আমরা করেছি ভুয়া ভোটারবিহীন ‘স্বচ্ছ ভোটার তালিকা’। আগে যেমন স্টিলের বাক্সে আগ থেকেই সিল মেরে বাক্স ভর্তি করত, সে সুযোগ আর নেই। এভাবে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকারকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো একে একে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ সামনের দিকে যায়, আর বিএনপির আমলে দেশ পেছনের দিকে চলে যাচ্ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। আমি সবার সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপি সেই নির্বাচনে কী করেছিল? এক একটা আসনে দুই/তিনজন করে তারা নমিনেশন দেয়। টাকার বিনিময়ে তারেক জিয়া লন্ডনে বসে আর ঢাকায় তাদের দুই নেতা একজন গুলশানে বসে আর একজন মতিঝিলে বসে নমিনেশন দেন। সকালে একটা বিকেলে একটা নমিনেশন দেয়। ৩০০ আসনে যদি কেউ ৭০০ নমিনেশন দেয় তাহলে তারা নির্বাচন কী করবে?

বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদের দুঃশাসনে মানুষদের যন্ত্রণা ভোগ করেছে, সার চাইতে গেলে মানুষকে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। বিদ্যুত চাইতে গেলে মানুষকে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। শ্রমিক যখন তার মজুরির জন্য আন্দোলন করছিল রমজান মাসে, ১৭ শ্রমিককে খালেদা জিয়া গুলি করে হত্যা করে। এই অবস্থায় তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। এদের মানুষের জন্য কোন মায়াদয়া ছিল না, কারণ এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি।

দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান ॥ প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনার পাশাপাশি বিশ^ব্যাপী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং একে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে সকলকে বিদ্যুত ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি মিতব্যায়ী ও সঞ্চয়ী হবার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি ও প্রত্যেকটি জলাধারকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোও আজকে হিমশিম খাচ্ছে এবং তারাও আজকে সাশ্রয়ী হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। আর বাংলাদেশে যেন সেই দুঃসময় না আসে সেজন্য কতগুলো বিষয়ে আমরা আগাম পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি বলেন, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। নিজেদের সঞ্চয় বাড়াতে হবে কেননা বিশ^ব্যাপী যে মন্দার ঢেউ দেখা দিয়েছে তা থেকে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশও বাদ যাচ্ছে না। তারপরেও তার সরকার ভর্তুতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত রাখার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মানে এই না যে বিদ্যুত একেবারে নাই বা শেষ হয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু না।

জন্মদিনে পুত্র জয়ের জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা ॥ ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। আবার এই ২৭ জুলাই  দিনটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই দিনটির কথা স্মরণ করে বলেন, পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে বন্দী অবস্থায় তাকে তারা হাসপাতালে যেতে দিলেও তার মা’ বঙ্গমাতাকে সেখানে যেতে দেয়নি। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জয়ের (সজীব ওয়াজেদ জয়) জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন। এ শুভ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে কেক কাটেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদ্য প্রায়াত সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তাকে স্মরণে রেখে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা আর্তমানবতার সেবায় ব্রতী হয়ে কাজ করে যা

User Comments

  • জাতীয়