২৩ মে ২০২২ ৫:১৩:২১
logo
logo banner
HeadLine
পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র অবকাঠামো করা যাবে না - প্রধানমন্ত্রী * খাদ্য, বিদ্যুৎ, আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সু-সমন্বিত প্রচেষ্টার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত * জনশক্তি রফতানিতে রেকর্ড, ৪ মাসে বিদেশ গেলেন সোয়া ৪ লাখ শ্রমিক * সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু * ব্যক্তিগতভাবে ৬০ বিঘার বেশি জমির মালিক হওয়ার সুযোগ থাকছে না * বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক * রাইস ব্র্যান ও সরিষার তেল উৎপাদন বাড়ানো হবে - বাণিজ্যমন্ত্রী * বরেণ্য সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই * অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ চিহ্নিতকরণ সহজ করতে ওষুধের মোড়কে লাল চিহ্ন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত * কক্সবাজারকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা অপরিহার্য - প্রধানমন্ত্রী * ২ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপি অনুমোদন * পদ্মা সেতু পারাপারে টোল নির্ধারণ * দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশে ফিরেছিলাম : প্রধানমন্ত্রী * শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ *
     17,2022 Tuesday at 11:43:32 Share

'বেসরকারি প্রাথমিক (বাংলা ও ইরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১১' বাস্তবায়নে কাজ শুরু, বন্ধ হতে পারে অলি গলির কেজি স্কুল

'বেসরকারি প্রাথমিক (বাংলা ও ইরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১১'  বাস্তবায়নে কাজ শুরু, বন্ধ হতে পারে অলি গলির কেজি স্কুল

শহরের অলিগলি ও গ্রামগঞ্জে গড়ে ওঠা হাজার হাজার কেজি স্কুলের অবশেষে লাগাম টানতে যাচ্ছে সরকার। কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা এসব কেজি স্কুল তদারকিতে বলতে গেলে এতদিন কোন কর্তৃপক্ষই ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে রমরমা শিক্ষা বাণিজ্য করে আসছে এসব প্রতিষ্ঠান। এখন এসব প্রতিষ্ঠান আয়ত্তে আনার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্সও। মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত এসব টাস্কফোর্স এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গতকাল (সোমবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা টাস্কফোর্সের প্রথম সভা। জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা। গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসকের কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার অধীন বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন) মো. হাবিবুর রহমান বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রকাশকদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে অন্যান্য শ্রেণির তো বটেই, প্লে-নার্সারি গ্রুপের শিশুর ওপরও চালানো হয় অতিরিক্ত বইয়ের অত্যাচার। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে কোনো ক্ষেত্রেই নেই নিয়মের তোয়াক্কা। শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও দেয়া হয় নামমাত্র। অনেক প্রতিষ্ঠানে মালিক ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানরা মিলেই স্কুল চালাচ্ছেন। নেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেরও কোনো ব্যবস্থা। ছেলে-মেয়েদের খেলা-ধুলা ও চিত্ত বিনোদনেরও কোনো সুযোগ নেই এসব প্রতিষ্ঠানে। তিন থেকে চারটি কক্ষেই চলে গোটা স্কুলের কার্যক্রম। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নামে-বেনামে আদায় করা হয় ইচ্ছামতো ফি। উচ্চ হারে ফি নিলেও মানসম্মত শিক্ষা তো দূরের কথা সাধারণ প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাটাও এসব প্রতিষ্ঠান দিতে অক্ষম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৯৬২ সালের রেজিস্ট্রেশন অব প্রাইভেট স্কুলস অর্ডিন্যান্স-এর আওতায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি নার্সারি/প্রিপারেটরি/কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির শিক্ষার জন্য ২০১১ সালে একটি বিধিমালা জারি করে। ‘বেসরকারি প্রাথমিক (বাংলা ও ইরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১১’ শীর্ষক জারিকৃত এই বিধিমালার আলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধিত ও পরিচালিত হবে বলে আশা করেছিলেন নীতি-নির্ধারকরা। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে- বিধিমালাটি জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত সার্বসাকুল্যে ৩০২টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করেছে।

অথচ কেজি স্কুলের বিভিন্ন সমিতির তথ্যমতে- দেশের আনাচে-কানাছে এ ধরনের অন্তত ৬০ হাজার স্কুল রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও এগুলোর ওপর সরকারের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি কোনটাই নেই। এরই প্রেক্ষিতে সারাদেশে অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা হাজার হাজার নার্সারি/প্রিপারেটরি/ কিন্ডারগার্টেন প্রতিরোধকল্পে বেসরকারি প্রাথমিক (বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১১ অনুযায়ী বিদ্যমান সকল নার্সারি/ প্রিপারেটরি/ কিন্ডারগার্টেন যাচাইক্রমে করণীয় নির্ধারণপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য বিভাগ/মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১৬ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব গোপাল চন্দ্র দাসের স্বাক্ষরে জারিকৃত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি নার্সারি/ প্রিপারেটরি/ কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির শিক্ষার জন্য ‘বেসরকারি প্রাথমিক (বাংলা ও ইরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১১’ জারি করা হয়। আশা করা হয়েছিল যে, জারিকৃত বিধিমালার আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধিত ও পরিচালিত হবে; কিন্তু সারাদেশে অনুসরণীয় উক্ত বিধিমালা উপেক্ষা করে বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। লক্ষ্য করা যায় যে, এ সকল বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি, ভর্তি ফি নির্ধারণ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-নীতি অনুসৃত হচ্ছে না। অন্যদিকে, পাঠ্য তালিকায় বইয়ের আধিক্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ বাড়ছে মর্মে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে এসব টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হয় প্রজ্ঞাপনে। পাঁচ সদস্যের এই টাস্কফোর্সে বিভাগীয় বা মহানগরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার সভাপতি এবং বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ডিআইজি, স্থানীয় সরকারের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে টাস্কফোর্সের সদস্য রাখা হয়েছে।

জেলার ক্ষেত্রে জেলাপ্রশাসক সভাপতি ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পুলিশ সুপার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সমাজসেবার উপ-পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে। আর উপজেলা টাস্কফোর্সের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এ কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

এসব কমিটি এলাকায় বিদ্যমান বেসরকারি প্রাথমিক (বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় (নার্সারি/ প্রিপারেটরি/ কিন্ডারগার্টেন) প্রতিষ্ঠার অনুমতি/নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজ-পত্র পরীক্ষা ও বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা নিরুপণ করবে। এছাড়া বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি, ফি-নির্ধারণ ও আদায়, ছাত্র ও শিক্ষক অনুপাত, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্যাদি পরীক্ষা করবে কমিটি। এর বাইরে বিদ্যালয়ের পাঠদান, সহ-শিক্ষা কার্যক্রম, আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং শ্রেণিভিত্তিক পাঠ্য পুস্তক অন্তর্ভুক্তি যাচাইয়ের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছে কমিটির উপর। আর এক মাসের মধ্যে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে কমিটিকে।

User Comments

  • আরো